হাম কেন প্রাণঘাতী হলো

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত ১৯ দিনে হামের লক্ষণ নিয়ে ৯৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিদিনই নতুন করে মৃত্যুর খবর আসছে, যা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে ৬ মাসের নিচের শিশুদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ৩ এপ্রিল সকাল ৮টার মধ্যে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ১৫ মার্চ থেকে ১৯ দিনে ৯৪ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হলেও, প্রতিদিন কতজন মারা গেছে তার বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ নেই অধিদপ্তরের কাছে। নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। শুরুতে ১৩ জনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৯ জনে নামিয়ে আনা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ব্যাখ্যা দিয়েছে, জেলা পর্যায় থেকে ভুল তথ্য পাঠানোর কারণে কিছু মৃত্যু জাতীয় তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর। তবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে একজনের মৃত্যু যুক্ত করা হয়েছে।

রোগীর চাপ বাড়ছে গত ২৪ ঘণ্টায়। সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৪৭ জন। এমআইএস থেকে পাঠানো হাম বিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেশি সন্দেহজনক রোগী ঢাকায়; ৩১৫ জন, এরপর চট্টগ্রামে ১৯৯, রাজশাহী ১১২, খুলনা ৮৯, বরিশাল ৭৬, সিলেট ৭০, ময়মনসিংহ ৪৪, রংপুর ৪২ জন। এই সময়ে  শনাক্ত হয়েছে ৪২ জনের। হাম রোগীও বেশি শনাক্ত হয়েছে ঢাকায়; ১৮, রাজশাহী ৮, চট্টগ্রামে ৪, খুলনা ৫, সিলেট ৫, রংপুর ১ ও বরিশাল ১ জন।

১৯ দিনে সন্দেহজনক রোগী এবং হাম শনাক্ত রোগী বেশি ঢাকা বিভাগে, তারপর রাজশাহীতে। ১৯ দিনে সন্দেহজনক সন্দেহজনক রোগী ৫ হাজার ৭৯২ জন। রোগী বেশি ঢাকায়; ২ হাজার ৩৯৪, এরপর বেশি রাজশাহী ১ হাজার ২৪৩, চট্টগ্রামে ৭১৭, খুলনা ৫৮২, বরিশাল ৩৫৯, সিলেট ২৫৬, ময়মনসিংহ ১২২, রংপুর ১১৯ জন। হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৭১ জনের। শনাক্ত রোগীও বেশি ঢাকায়; ৩৫৮, এরপর বেশি রাজশাহী ১৯৪, চট্টগ্রামে ১০২, খুলনা ৪১, বরিশাল ৩৮, সিলেট ১৯, ময়মনসিংহ ১৪, রংপুর ৫ জন। তবে কোন বিভাগে মৃত্যুহার বেশি, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা না পাওয়া, টিকাদানের হার কমে যাওয়া, মায়েদের অ্যান্টিবডির ঘাটতি, অপুষ্টি ও ডায়রিয়া, দেরিতে চিকিৎসা নেওয়া, ভুল ও অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিউমোনিয়াসহ জটিল সংক্রমণসহ কয়েকটি কারণে হাম এখন বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। দেশে প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগে এত শিশুমৃত্যু নতুন করে স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হবে। শিশুমৃত্যু ঠেকাতে টিকাদান এবং সচেতনতার বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাম এখন বেশি দেখা যাচ্ছে, তবে এটি হঠাৎ প্রাণঘাতী হয়ে ওঠেনি। মূলত টিকা না পাওয়ার কারণে সমস্যা বাড়ছে। হামে নিউমোনিয়া হয়, আর সেখান থেকেই মৃত্যু হয়।’

তিনি জানান, চার বছর টিকাদানে ঘাটতি ছিল। এখন তা পূরণে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন ‘যে কোনো ভাবে টিকা সংগ্রহ করেছি। রবিবার থেকে টিকাদান শুরু হবে। প্রস্তুতির জন্য বন্ধের দিনেও আমরা কাজ করছি। শনিবার বন্ধের দিনও আমরা অফিস করব।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, ‘যেসব শিশু টিকা পায়নি, দ্রুত তাদের টিকা দিন। এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যান।’

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি আগামীকাল রবিবার শুরু হবে। মাসব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। বর্তমানে জাতীয় টিকাদান সূচি অনুযায়ী ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ৬ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়ায় তাদেরও এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত। যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে আশপাশের অনেকেই সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। প্রথম দিকে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, এসব উপসর্গ দেখা দেয়। সাধারণত তিন থেকে চার দিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ ওঠে, যা হামের প্রধান লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের এই ভয়াবহতার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ টিকাদানের ঘাটতি। পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইয়ামিন শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, ‘একটি সমাজে যদি ৯৫ শতাংশ মানুষ টিকা পায়, তাহলে সংক্রমণ ছড়ায় না বললেই চলে। কিন্তু আমাদের দেশে গত দেড়-দুই বছরে এই হার নেমে এসেছে প্রায় ৫৭ শতাংশে। হামের টিকা দুই ধাপে দেওয়া হয়, প্রথমটি ৯ মাসে এবং দ্বিতীয়টি ১৫ মাসে। কিন্তু অনেক শিশু দ্বিতীয় ডোজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে পূর্ণ সুরক্ষা পাচ্ছে না তারা। বিশ্বে প্রথম ডোজের কভারেজ প্রায় ৮৬ শতাংশ হলেও দ্বিতীয় ডোজ ৭৪-৭৫ শতাংশে নেমে যায়। আমাদের দেশে দুই ডোজ মিলিয়ে গড় হার আরও কম।’

চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। এ কারণে সরকার সম্প্রতি টিকার প্রথম ডোজ ৬ মাসে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অধ্যাপক ডা. ইয়ামিন শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, ‘জ্বরের দুই থেকে চার দিন পর র‌্যাশ ওঠে। এর আগেই অনেক সময় ভুল চিকিৎসা বা অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, যা রোগকে জটিল করে তোলে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামে মৃত্যুর মূল কারণ ভাইরাস নয়, বরং এর জটিলতা। অধ্যাপক ডা. ইয়ামিন শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বেশিরভাগ শিশুর মৃত্যু হয়েছে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে। হামের কারণে শরীর দুর্বল হয়ে গেলে সুযোগসন্ধানী জীবাণু আক্রমণ করে।’ তিনি জানান, কিছু ক্ষেত্রে চোখের প্রদাহ (কনজাংটিভাইটিস) ও বিরলভাবে মস্তিষ্কের সংক্রমণও দেখা যাচ্ছে। রাজশাহীতে যারা সম্প্রতি শ্বাসকষ্টে ভুগে মৃত্যুবরন করেছে, তাদের অনেকেই হামে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আগে ধারণা করা হতো মায়েদের থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি ৯ মাস পর্যন্ত কাভার করে। কিন্তু তা এখন নেই। মায়েদের শরীরে অ্যান্টিবডি না থাকলে শিশুরাও জন্মের সময় সেই সুরক্ষা পায় না। ফলে ৬ মাসের আগেই তারা ঝুঁকিতে পড়ে। মায়েদের টিকা দিলে নবজাতক অন্তত ৬ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন টিকাদানে ঘাটতির কারণে এই সুরক্ষা ভেঙে গেছে।’

অপুষ্টি ও ডায়রিয়াও শিশুমৃত্যুর বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পুষ্টির ঘাটতি বা ডায়রিয়ার কারণে শিশু দুর্বল হয়ে যায়। তখন হামে আক্রান্ত হলে দ্রুত নিউমোনিয়া হয় এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে। সংক্রামক রোগের জন্য পর্যাপ্ত হাসপাতাল না থাকায় অনেক শিশু সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছে না। ঢাকায় একটি সংক্রামক রোগ হাসপাতাল আছে, কিন্তু রোগীর চাপ সামলানো যাচ্ছে না। কমপক্ষে পাঁচটি এমন হাসপাতাল দরকার।’

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে বেশ কয়েকজন শিশুমৃত্যু হয়েছে। নিউমোনিয়া হয়ে বেশ কিছু শিশু মারা যাচ্ছে। যেহেতু হাম সংক্রামক ব্যাধি। এটার কমপ্লিকেশন বেশি। মারা যায়, অপুষ্টি হয়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। চোখের মারাত্মকভাবে ক্ষতি হয়।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিরোধ। হামের কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, এ রোগপ্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো টিকা। সরকারিভাবে শিশুদের জন্য হাম-রুবেলা টিকা দুই ডোজে দেওয়া হয়। একটি ডোজ নয়, পূর্ণ সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করতেই হবে। সরকারি হোক বা বেসরকারি, যেখান থেকেই দেওয়া হোক না কেন, নির্ধারিত দুই ডোজ সম্পন্ন করা জরুরি।

 দেশের বিভিন্ন স্থানে হাম উপসর্গ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার ভোরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে ভর্তি হওয়া ৮ মাসের শিশু আফরানের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ পরিবারের। গত ২৬ মার্চ ভর্তির সময় থেকেই শিশুটি সংকটাপন্ন ছিল বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল জানান, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় ঠান্ডাজ্বর, সর্দি-কাশিজনিত জটিলতা নিয়ে ভর্তি আছে ২৮৪ শিশু, এরমধ্যে নমুনা পরীক্ষাসহ নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২, মৃত্যুসংখ্যা ২ জন। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৭ জন। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে ৮০ রোগী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১২টি শিশু জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শুক্রবার সকালে হাসপাতালে নিয়ে আসা মাসুদা নামের আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাশিশু মারা গেছে। তবে সে হামজনিত নাকি অন্য রোগে মারা গেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মসিউর রহমান জানান, বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৬টি শিশু ভর্তি রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ শিশু ভর্তি হলেও ২৪টি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৪৬টি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, সারা দেশের মতো ঝিনাইদহ জেলায় শিশুদের হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ঝিনাইদহে এ পর্যন্ত ১৪ জন শিশু হাম ও জ্বর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। সচেতনতা থাকলেই এ রোগ অনেকটা কমে আসবে।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে নতুন করে আরও ৯ শিশু ভর্তি হওয়ায় সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।