রাজধানীতে গতকাল পৃথক দুটি ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী সাবিত মাহমুদ শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতা করছিলেন। গতকাল শুক্রবার সকালে তুরাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই ইখলাস মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত নিশ্চিত করা যাবে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ কাজল মিয়া জানিয়েছেন, ‘সাবিত কয়েকদিন ধরেই মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কিছু অস্বাভাবিক পোস্টও দিয়েছিলেন।’
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফলিত রসায়ন ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাইদুল আমিন সীমান্তর (২৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগের একটি বাসা থেকে সীমান্তকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জানা যায়, কয়েক বছর আগে ঢাবি শিক্ষার্থী সীমান্তর মা মারা যান, তার বোন প্রতিবন্ধী, সবকিছু নিয়ে তিনি ডিপ্রেশনে ছিলেন। পুলিশ বলছে, সম্ভবত ডিপ্রেশন থেকেই আত্মহত্যা।
সীমান্তর চাচা রুহুল আমিন বলেন, ‘হাজারীবাগের একটি বাসায় সাবলেট থাকত সীমান্ত। তার রুমমেট জানায়, রাত ৯টার পর সীমান্ত নিজের রুমের দরজা বন্ধ রাখে। দীর্ঘ সময় তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি জানানো হয় বাড়ির মালিককে। পরে বাসার মালিক দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেকে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ বের হচ্ছিল। এতে ধারণা করছি ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছে। তবে কেন এই কাজটি করেছে তা কিছুই বলতে পারব না।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সীমান্তের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি রাসায়নিক সোডিয়াম বিষক্রিয়া পান করে নিজেই আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’