৫ মাসেও প্রকাশ হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ফজিলাতুন নেছা হলের তিন আউটসোর্সিং কর্মচারীকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে চাকরিচ্যুত করা হয়। সেই সময় অভিযোগ ওঠে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নজরুল ইসলামের বাসায় কাজ না করার কারণে তাদের চাকরি যায়। পরে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হলে গত পাঁচ মাসেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। এতে করে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত বছরের ৮ অক্টোবর এক প্রশাসনিক সভার সিদ্ধান্তে এ তদন্ত কমিটি গঠন করে। অভিযোগ আর্থিক লেনদেনসহ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল কমিটির। তবে জানা গেছে, কমিটির সদস্যরা অফিস আদেশটি হাতে পান ৫ নভেম্বর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, সাধারণত এ ধরনের তদন্ত কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়সীমা যেমন ৪৫ বা ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে আলোচিত এ কমিটির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। জানা যায়, ফজিলতুন নেছা হলের তিন আউটসোর্সিং কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে হলটিতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়াই তাদের কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে তাদের স্থলে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, হলের দায়িত্ব পালনের বাইরে অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়। এর মধ্যে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নজরুল ইসলামের বাসায় কাজ না করাটাই মুখ্য হয়ে উঠেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

চাকরিচ্যুত কর্মচারী ডাইনিং অ্যাটেনডেন্ট চম্পা খাতুন জানান, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাননি। তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই অর্থে-কষ্টে আছি। প্রশাসনের কাছে মিনতি করি, আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দিন।’

পাঁচ মাসেও রিপোর্ট জমা না হওয়ার বিষয়ে তদন্ত কমিটির সভাপতি এবং গাণিতিক ও পদার্থবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাহবুব কবীর জানিয়েছেন, কমিটির আনুষ্ঠানিক মিটিং শেষ হয়েছে। তারা এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবেন। তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আলেয়া ফেরদৌসী বলেন, তারা ইতিমধ্যে তিনটি মিটিং করেছেন। তদন্ত কমিটি গঠনের অফিস আদেশে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না। তবে তারা শিগগিরই কমিটির কাজ সমাপ্ত করবেন।

তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা কেন নেই, তা ডেপুটি রেজিস্ট্রার (সাধারণ প্রশাসন) মাহতাব উজ জাহিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, উনার স্বাক্ষরে অফিস আদেশ হলেও তাতে কেন সময়সীমা উল্লেখ ছিল না, তা তিনি জানেন না। এটা ঊর্ধ্বতন থেকে তার কাছে এসেছে। তিনি শুধু স্বাক্ষর করে তা সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়েছেন।

জানা গেছে, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়া তদন্ত কমিটি গঠন এবং দীর্ঘ সময়েও প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া প্রশাসনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। তারা বলছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে বিষয়টির একটি স্বচ্ছ সমাধান পাওয়া সম্ভব হবে।