গত মৌসুমে হাঁটুর চোটের কারণে রদ্রি প্রায় পুরোটা সময় মাঠের বাইরে ছিলেন, যার মাশুল দিতে হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটিকে। দীর্ঘ আট বছরে এই প্রথম কোনো বড় শিরোপা ছাড়াই মৌসুম শেষ করতে হয়েছিল তাদের। চলতি মৌসুমেও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে বেশ কিছু ম্যাচ মিস করলেও ২৮টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন রদ্রি। সম্প্রতি ওয়েম্বলিতে আর্সেনালকে হারিয়ে কারাবাও কাপ জয়েও বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
স্প্যানিশ মিডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রদ্রি সরাসরিই বলেছিলেন, “অ্যাটলেটিকো ও রিয়াল—উভয় ক্লাবেই খেলার নজির অনেকের আছে। বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।” রদ্রির এই মন্তব্য তাঁর ম্যানসিটি ছাড়া এবং স্পেনে ফেরার গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে।
রদ্রিকে নিয়ে প্রশ্নে গার্দিওলা বলেন, “ক্লাব কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছে তারা চায় রদ্রি থাকুক, থাকুক এবং থাকুক। আমি সবসময়ই ইতিবাচক অনুভব করি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হবে তা জানি না।” তবে ক্লাবের চেয়ে কোনো খেলোয়াড় বড় নয়—এমন দর্শন মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “যদি কোনো খেলোয়াড় খুশি না থাকে, তবে তাকে চলে যেতে হবে। রদ্রি যদি অখুশি হয়, তবে সে স্পোর্টিং ডিরেক্টরের দরজায় নক করতে পারে এবং তাঁর মানের উপযুক্ত অফার নিয়ে ক্লাব ছাড়তে পারে। আমি মোটেও তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াব না।”
২০১৯ সালে সিটিতে যোগ দেওয়ার পর রদ্রি চারটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, এফএ কাপ এবং তিনটি লিগ কাপ জিতেছেন। গার্দিওলা স্বীকার করেছেন যে, সিটির সাফল্যে রদ্রির অবদান বিশাল এবং ক্লাবের সাথে তাঁর আত্মার টানও গভীর।
রদ্রির বর্তমান চুক্তি এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে সিটি ভক্তদের মনে এখন চরম উদ্বেগ। যদিও ক্লাব তাঁকে ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে, তবে গার্দিওলার এই ‘উন্মুক্ত দুয়ার’ নীতি রদ্রির সম্ভাব্য প্রস্থানের পথকে আরও সহজ করে দিতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে রদ্রির এই দলবদল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হতে যাচ্ছে।