‘বিশ্বসেরা’ দিবুকে আরসের চ্যালেঞ্জ, কী বললেন মার্তিনেজ?

আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজকে এক ভিডিও বার্তায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও দেপোর্তিভো রিয়েস্ত্রার গোলরক্ষক ইগনাসিও ‘নাচো’ আর্সে। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে জাম্বিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৫-০ ব্যবধানের বড় জয়ের পর জাতীয় দলের এই ‘বাজপাখি’কে মজার এক খেলায় মেতে ওঠার আমন্ত্রণ জানান আর্সে।

আর্জেন্টিনার হয়ে টানা ৪১ ম্যাচে অপরাজিত থাকার অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। বন্ধুর এই সাফল্যে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাঁকে কিছুটা ‘কঠিন’ পরীক্ষায় ফেলতে চেয়েছেন নাচো আর্সে। রিয়েস্ত্রার অনুশীলনের ফাঁকে একটি ভিডিও রেকর্ড করে মার্তিনেজকে ট্যাগ করেন তিনি।

ভিডিওতে দেখা যায়, নাচো আর্সে একটি ছোট গোলপোস্টে দূর থেকে বল মারার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। তিনি মার্তিনেজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আরে দিবু, তুমি তো বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক, তুমি সবকিছু বড্ড সহজ বানিয়ে ফেলেছ বন্ধু। দেখো, এবার আমি তোমার কাজটা একটু কঠিন করে দিচ্ছি। দেখা যাক কে জেতে!” দুই প্রচেষ্টার মধ্যে একবার লক্ষ্যভেদ করে আর্সে তাঁর সাফল্যের হার ‘৫০ শতাংশ’ বলে দাবি করেন।

অ্যাস্টন ভিলার এই গোলরক্ষক ভিডিওটি দেখার পর হেসেই উড়িয়ে দেননি, বরং বন্ধুর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। ইনস্টাগ্রামে মার্তিনেজ উত্তর দেন, “খুব কাছাকাছি গিয়েছিল, তাই না? আমি তোমাকে পরে একটি (ভিডিও) পাঠাচ্ছি।” বন্ধুর এই চ্যালেঞ্জের পাল্টা জবাব দিতে যে তিনি প্রস্তুত, সেটিই বুঝিয়ে দিয়েছেন কাতার বিশ্বকাপের এই নায়ক।

দিবু ও নাচো আরসের বন্ধুত্ব আজকের নয়। ২০০৯ সালে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপে সতীর্থ ছিলেন তাঁরা। সেই সময় নাচোকে টপকে মূল একাদশে জায়গা করে নিয়েছিলেন দিবু। নাচো আর্সে এক সাক্ষাৎকারে স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ও যখন ইংল্যান্ডে যেত, তখন ওকে ইংরেজি পড়া ধরতাম আমি। ওর মাথা খুবই পরিষ্কার ছিল, জানতাম ও অনেক দূর যাবে। ওর জার্সি আর গ্লাভস আমি খুব যত্ন করে তুলে রেখেছি।”

পেশাদার ক্যারিয়ারে দিবু মার্তিনেজ যখন বিশ্বজয়ী তারকা, নাচো আর্সে তখন আর্জেন্টিনার ঘরোয়া লিগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোলরক্ষক। রিয়েস্ত্রার হয়ে টানা ২৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পেছনে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। যদিও সম্প্রতি ইউনিয়নের বিপক্ষে ম্যাচে একটি ভুল পাস থেকে গোল হজম করে আলোচনায় এসেছেন তিনি, তবুও মাঠের বাইরে তাঁর ও দিবুর এই বন্ধুত্ব আর্জেন্টাইন ফুটবল ভক্তদের কাছে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।