২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও ব্রাজিল দলের ১ নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে কার্লো আনচেলত্তির প্রথম পছন্দ আলিসন বেকার। কিন্তু বাধ সেধেছে চোট। লিভারপুলের এই তারকার শারীরিক অবস্থা এখন ব্রাজিল কোচিং স্টাফের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এমনকি শঙ্কা জেগেছে, বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে তার থাকা নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সবশেষ প্রীতি ম্যাচগুলোতে খেলতে পারেননি আলিসন। লিভারপুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলা এই মৌসুমে তিনি কবে নাগাদ মাঠে ফিরবেন- সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আনচেলত্তি তার সহকারী ও স্কাউটদের নির্দেশ দিয়েছেন বিকল্প গোলরক্ষকদের ওপর কড়া নজর রাখতে।
আলিসনের বিকল্প হিসেবে বর্তমানে দুটি নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। একজন করিন্থিয়ানসের ১ নম্বর গোলরক্ষক হুগো সুজা, যাকে সবশেষ ফিফা উইন্ডোতে আলিসনের বদলি হিসেবে ডাকা হয়েছিল। অন্যজন বোতাফোগোর হয়ে লিবার্তাদোরেস জেতা এবং বর্তমানে নটিংহ্যাম ফরেস্টে খেলা জন। এই দুই গোলরক্ষকের সঙ্গেই নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তি গোলরক্ষক ও বর্তমানে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের সদস্য তাফারেল।
‘ইএসপিএন ব্রাজিল’ জানিয়েছে, জনের ব্যাপারে তাফারেল বেশ আগ্রহী। নটিংহ্যাম ফরেস্টের হয়ে বাম হাঁটুতে চোট পাওয়ায় প্রীতি ম্যাচগুলোতে সুযোগ পাননি জন। তবে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহেই তার অনুশীলনে ফেরার কথা রয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের শেষ ভাগে নিজের ফিটনেস প্রমাণ করতে পারলে আনচেলত্তির মন জেতা সহজ হবে তার জন্য। অন্যদিকে, হুগো সুজা মৌসুমের শুরুতে কিছুটা ফর্মহীনতায় ভূগলেও আলিসন বা জন সুস্থ না হলে কপাল খুলে যেতে পারে তার।
বিশ্বকাপের জন্য আনচেলত্তির যে ২৪ জন নিশ্চিত খেলোয়াড়ের তালিকা রয়েছে, তাতে আলিসনের নাম থাকলেও চোটের কারণে সেটি এখন অনিশ্চিত। তবে বাকি দুই গোলরক্ষক হিসেবে আল নাসরের বেন্তো এবং ফেনারবাচে খেলা এডারসনের টিকিট প্রায় নিশ্চিত। আগামী ১৮ মে, সোমবার রিও ডি জেনিরোতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন কার্লো আনচেলত্তি।