বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন প্রার্থী মো. আবিদুর রহমান সোহেল। শনিবার (৪এপ্রিল) দুপুরে শহরের নবাববাড়ি সড়কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি প্রতিপক্ষের হুমকি এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক আ.স.ম আব্দুল মালেক, সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হাকিম সরকার, জামায়াত নেতা রফিকুল আলম, আল-আমিন, আব্দুল হালিম বেগ, আব্দুস ছালাম তুহিন, আজগর আলী, ইকবাল হোসেন, শাহীন মিয়া, নুরুল ইসলাম আকন্দ প্রমূখ।
সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী মো. আবিদুর রহমান সোহেল দাবি করেন, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীকের নেতাকর্মীরা তার নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করছে এবং পরিবেশ অশান্ত করে তুলছে। তিনি অভিযোগ করেন, তার মহিলা কর্মী মাজেদা বেগমের বাড়িতে একাধিকবার গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে তার কর্মীদের হুমকি দেওয়া, উঠান বৈঠক পণ্ড করা এবং নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ প্রার্থী আরও জানান, তার নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে প্রতিপক্ষের ব্যানার টানানো হচ্ছে। এসব ঘটনার বিরুদ্ধে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে এ পর্যন্ত ১৫টি অভিযোগ জমা দিয়েছেন, যার সঙ্গে ভিডিও প্রমাণও রয়েছে। তবে এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের দিন সন্ত্রাসী ভাড়া করে কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপির চেষ্টা হতে পারে।
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে তিনি কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, দলীয় প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ বাতিল এবং নির্বাচনের আগে থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ।তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা করেন এবং এ ক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত প্রার্থী বলেন, দাঁড়িপাল্লার ভোটারদের ভয়ভীতি এবং হুমকি-ধামকীর মাধ্যমে পুরো এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। সরকারের কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বগুড়ার উপনির্বাচনে তারা জিততে পারবেনা এটা টের পেয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র করছে। তারা মাগুরা স্টাইলে বগুড়ার উপনির্বাচনে ভোট ডাকাতি করতে চায়। প্রশাসনকে বারবার বলার পরও যেহেতু কোন প্রতিকার হচ্ছেনা, সেহেতু ভোট ডাকাতির চেষ্টা হলে শক্ত হাতে তা প্রতিহত করা হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।