রুশ ফেডারেশনের সাইবেরিয়া অঞ্চলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত, পৃথিবীর সর্বপ্রাচীন স্বাদুপানির হ্রদ বৈকাল। বিজ্ঞানীদের মতে, এই হ্রদের বয়স প্রায় ২০-২৫ মিলিয়ন বছরের মতো। পৃথিবীর মোট স্বাদু পানির এক-পঞ্চমাংশ (২৩ হাজার ঘন কিমি.) এই হ্রদের বুকে প্রবাহিত হচ্ছে। রাশিয়ার অন্যতম এই জলধারাটি স্থানীয়দের নিকট অত্যন্ত পবিত্র হিসেবে বিবেচিত। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ বৈকাল হ্রদ অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে জানা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে মানুষ সর্বপ্রথম বৈকাল হ্রদ আবিষ্কার করে। এই হ্রদের ইতিহাস এতটা প্রাচীন যে স্থানীয়রা বিশ্বাস করে, স্বয়ং যিশুখ্রিষ্ট এই হ্রদ অঞ্চলে ভ্রমণে এসেছিলেন। যদিও এর কোনো ঐতিহাসিক দলিল নেই। এই হ্রদের পানি পৃথিবীর অন্যতম বিশুদ্ধ এবং স্বচ্ছ পানি। বৈকাল হ্রদের বিশাল অঞ্চলজুড়ে পানির জোগান দিয়ে আসছে প্রায় ৩৩০টির মতো নদী। এই হ্রদ জীববৈচিত্র্যের আধার। প্রায় ১ হাজার ৮০০ প্রজাতির মতো পশুপাখি হ্রদ অঞ্চলকে প্রাণে মুখরিত করে রেখেছে। হ্রদের কাছাকাছি অঞ্চলে পাওয়া যায় শত শত প্রজাতির গাছগাছালি। এখানে প্রাপ্ত জীবদের অধিকাংশই আঞ্চলিক (এন্ডেমিক)। পৃথিবীর অন্য কোথাও এদের দেখা যায় না। এজন্য জীবপ্রেমী এবং গবেষকদের কাছে বৈকাল সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। এই হ্রদের পানিতে প্রায় ৫০ প্রজাতির মাছের বাস। হ্রদের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রাণী নেরপা। এটি শুধু বৈকাল নয়, বিশ্বের একমাত্র স্বাদুপানির সিলমাছ। এখানে প্রায় ১ লাখ নেরপার বসবাস। বিবর্তনবিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রাণী এরা। ঠিক কখন তারা সাগর থেকে স্বাদুপানিতে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে, তা উদঘাটন করতে গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।