ইরান যুদ্ধ

উভয় পক্ষের হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হতে পারে, সতর্কবার্তা সাবেক মার্কিন দূতের

ইরান ও প্রতিপক্ষের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক সাবেক বিশেষ দূত স্টিফেন র‍্যাপ। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে উভয় পক্ষের এই হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

সম্প্রতি এক বক্তব্যে স্টিফেন র‍্যাপ বলেন, ‌‘এটি মনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, আন্তর্জাতিক আইন উভয় পক্ষের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। যুদ্ধ শুরু করার পেছনে কে সঠিক আর কে ভুল, সেটি বড় কোনো বিষয় নয়। আইন সবার জন্যই এক।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ইরান যদি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা চালায় কিংবা যুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে না এমন তেল স্থাপনায় আঘাত হানে, তবে তা হবে স্পষ্ট অপরাধ। কারণ এসব স্থাপনা যুদ্ধের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না।

স্টিফেন র‍্যাপ যুক্তি দেখান যে, ইরান আক্রমণ করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তিনি এই সংঘাতের সূচনাকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘এই যুদ্ধ শুরু করাটা ঠিক তেমনি একটি অপরাধ, যেমনটা ছিল ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা। রাশিয়ার নেতাদের এই অপরাধের বিচারের জন্য যেমন ইউরোপে একটি আন্তর্জাতিক আদালত গঠন করা হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও নিশ্চিতভাবে তেমনটি হতে পারে।’

সাবেক এই মার্কিন দূতের মতে, যুদ্ধের একমাত্র বৈধ কারণ হতে পারে ‘আত্মরক্ষা’, যা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন কোনো দেশ তাৎক্ষণিক হামলার হুমকির মুখে থাকে। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারে—কেবল এই আশঙ্কার ভিত্তিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি ছাড়া দেশটিতে হামলা চালানো বৈধ নয়।’

তবে তিনি একটি সম্ভাব্য ভিন্নমতের কথা উল্লেখ করে বলেন, যদি হরমুজ প্রণালীতে কোনো দেশের জীবনযাত্রা বা অর্থনীতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে, তবে উপসাগরীয় দেশগুলো আত্মরক্ষার যুক্তি দিতে পারে। যদিও তিনি জোরালোভাবে বলেন যে, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে ‘নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হওয়া’ সব সময় শ্রেয়।

র‍্যাপের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে বেসামরিক জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার এই বক্তব্য বিশ্বশক্তিগুলোকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে চলার ক্ষেত্রে নতুন করে চাপের মুখে ফেলবে।

সূত্র: আল-জাজিরা