বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভুল-ভ্রান্তি নিরসনে গঠনতন্ত্র সংশোধনের পরামর্শ তদন্ত কমিটির

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আজ রবিবার দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) পাঁচ সদস্যের এই কমিটি প্রতিবেদনটি দাখিল করে।

তদন্ত কমিটির প্রধান, সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, কাউকে সরাসরি অভিযুক্ত না করে একটি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিসিবি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুন্দর করার লক্ষ্যে প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যেসব ভুল-ভ্রান্তি বা বিচ্যুতি পাওয়া গেছে, তা নিরসনে গঠনতন্ত্র সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আসাদুজ্জামান বলেন, "আমরা একটা তদন্ত করতে বসেছিলাম। নিরপেক্ষভাবে চেষ্টা করেছি। যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছিলাম, তাদেরকে জিজ্ঞাবাদ করেছি। যা পেয়েছি, সেভাবে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছি। কাউকে অভিযুক্ত না করে রিপোর্ট দিয়েছি। আমরা কাউকে অভিযুক্ত করিনি, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আনিনি। যা হয়েছে, যা হয়নি, এসব রিপোর্ট দিয়েছি।’

স্বাধীন তদন্ত কমিটির সুপারিশমালায় গঠনতন্ত্র সংশোধনের কথা বলা আছে বলে জানিয়েছেন এই এ কে এম আসাদুজ্জামান, ‘আমরা কিছু সুপারিশ করেছি। আমরা চেষ্টা করেছিলাম একটা সুপারিশ দেওয়ার জন্য যে (ভবিষ্যতে) নির্বাচনটা সুন্দর করার জন্য বা এই বোর্ডসংক্রান্ত আর কোনো সুপারিশ করা যায় কি না, এই সম্পর্কে আমরা কিছু গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। গঠনতন্ত্র সংশোধনের ব্যাপার আছে।’

প্রতিবেদনের বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করা হয়নি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানা গেছে।

তদন্ত চলাকালীন কমিটি সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে কথা বলেছে। বর্তমান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা সরাসরি উপস্থিত না হলেও কমিটির প্রশ্নের লিখিত জবাব দিয়েছেন।

তবে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সাক্ষাতকারের জন্য ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হননি। এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, "উনাকে অভিযুক্ত করার জন্য নয়, বরং উনার বক্তব্য শোনার জন্যই ডাকা হয়েছিল। আমরা অপেক্ষা করেছি, কিন্তু উনি আসেননি।"

তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার কিছুক্ষণ পরই সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন এবং বিসিবির স্বায়ত্তশাসন লঙ্ঘনের মতো ‘এখতিয়ার বহির্ভূত’ কাজ মনে করেই তিনি কমিটির ডাকে সাড়া দেননি। এছাড়া কমিটির প্রজ্ঞাপনে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নির্ধারিত ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।