আত্মনির্ভরশীল চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা

কাঙ্ক্ষিত জাতি ও সমাজ বিনির্মাণে শিক্ষা অপরিহার্য। বাংলাদেশের মতো জনসংখ্যার দেশে, শিক্ষাই পারে দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে। মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করা বহু শিক্ষার্থীর জন্য, বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর পরিবারের সন্তানদের জন্য বিরাট বাধা। টিউশন ফি, বাসস্থান এবং অন্যান্য শিক্ষাগত খরচের বোঝা তাদের স্বপ্নের ওপর কালো ছায়া ফেলে। জ্ঞান উৎপাদনের পাশাপাশি প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা যেমন, ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল শিক্ষার মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিতে পারবে শিক্ষার্থী এবং তাদের উচ্চাকাক্সক্ষা পূরণ করতে পারবে। বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু যাতে উচ্চমানের শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষা শেষে সহজেই চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারে তা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য আবশ্যক। সরকারের সব শিশু, বিশেষ করে প্রান্তিক শিশুর জন্য সহজলভ্য ও বিনামূল্যে শিক্ষা এবং তাদের প্রয়োজনীয় উচ্চমানের প্রশিক্ষণ প্রদানের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চাহিদা পূরণ করতে স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরিসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ শিক্ষায় অংশগ্রহণে সংখ্যাগত দিক থেকে সুযোগ বৃদ্ধিতে অগ্রগতি অর্জন করলেও গুণগতমানে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সমতা এবং শিক্ষা-পরবর্তী কর্মসংস্থানের প্রাসঙ্গিকতার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাহিদার সংযোগ স্থাপনের বিশাল ব্যবধান রয়েছে। দেশে জিপিএ ৫ অর্জনকারীর সংখ্যা বাড়ছে, গ্রাজুয়েটের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সমহারে তারা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারছে না। দক্ষ জনশক্তির অভাবে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা অপ্রতুল। জ্ঞান উৎপাদন ও তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করার মাধ্যমে, উন্নত বিশ্বের প্রায় সব দেশে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান রয়েছে। সামগ্রিকভাবে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার বিস্তারের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও, প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনকারী শিক্ষার্থী তারা তৈরি করতে পারছে না। ফলে বেকারত্বের হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশেষভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাহিদানুযায়ী, নির্দিষ্ট ও বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ জনবল তৈরি হচ্ছে না। ফলে দেশের বিভিন্ন শিল্প কারখানা পরিচালনা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। অপর্যাপ্ত গবেষণা বরাদ্দ, শিক্ষক প্রশিক্ষণের অভাব এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী না করে তোলায় সংকট ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা অতীতে কী ছিল এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এবং বিশ্বে শিক্ষাব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে , তা দীর্ঘ গবেষণা ও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। গবেষণা-নির্ভর তথ্যের ওপর শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। উল্লিখিত সংকটটি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিরাজমান সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা। দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমান সরকারের প্রথম করণীয় হলো সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়ন করা। ইতিমধ্যে প্রণীত কারিকুলামগুলোর (পুরনো ও নতুন) ইতিবাচক দিকগুলো রেখে চাহিদাভিত্তিক বিষয়বস্তু সংযোজন করার পাশাপাশি, তা বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও পাইলটিং দরকার। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় মুখস্থ-নির্ভর। একটি বিষয় মুখস্ত করে, পরীক্ষা খাতায় ভালোভাবে লিখতে পারলেই কোর্স সম্পূর্ণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় কী লিখে এলো, তার চেয়ে কী শিখতে পারল তাকে প্রাধান্য দিতে হবে। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় হাতে-কলমে চর্চার সুযোগ করে দিতে হবে। এতে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি, চাকরির বাজারেও এসব শিক্ষার্থীর চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সমস্যা নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে, চাহিদানুযায়ী অর্থবরাদ্দ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের মধ্যে, শক্তিশালী অংশীদারত্বসহ শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

সংস্কার প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হলেও, দেশের স্থায়ী সমৃদ্ধি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য জ্ঞানভিত্তিক দেশীয় অর্থনীতি তৈরি করতে সেই উদ্যোগ সরকারকে গ্রহণ করতে হবে। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৃথক বেতন কাঠামো, প্রণোদনা ও পর্যাপ্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং মেধাবিদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করার জন্য প্রয়োজন গবেষণা ভাতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ। দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে জিপিএ ৫-এর সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ পরবর্তী কর্মক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা ও জ্ঞানের কাক্সিক্ষত প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না। মূল্যায়ন ব্যবস্থা সংস্কার করে, মুখস্থের পরিবর্তে হাতে-কলমে শিক্ষা ও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে। দেশের বর্তমান পাঠ্যক্রম একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা মেটাতে এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করতে প্রায়ই ব্যর্থ হচ্ছে। অর্থাৎ গবেষণা ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু না থাকায়, বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও অনেক তরুণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা এই সংকটের জন্য অ্যাকাডেমিক শিক্ষা এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাহিদার মধ্যে এক বিশাল দূরত্বকে দায়ী করেন। নিয়োগকর্তারা এমন প্রার্থী খোঁজেন,  যাদের কারিগরি দক্ষতা ও নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পগুলোতে একদিকে যেমন দুর্নীতির উৎসব লক্ষ করা গেছে, অন্যদিকে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা স্নাতকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব স্মরণ করিয়ে দেয়। এই প্রকল্পগুলোতে চীন, জাপান এবং রাশিয়ার প্রকৌশলীরা প্রধান কারিগরি কাজগুলো করছেন, যেখানে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের ভূমিকা মূলত সহযোগীর পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। উচ্চশিক্ষায় আমাদের শিক্ষার্থীদের এ রকম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কাজে ব্যাপক ভূমিকা রাখার জন্য প্রস্তুত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মেডিকেল কলেজগুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয় এবং ডিগ্রি অর্জন করে। অথচ আমাদের চিকিৎসার জন্য নির্ভর করতে হয় বিদেশি চিকিৎসকদের ওপর। এই ব্যর্থতা দূর করতে হবে। আমরা চাই, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে খেটে খাওয়া মানুষ পর্যন্ত সবাই বিদেশে নয়, দেশের মাটিতে গড়ে ওঠা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেবে। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অর্থ সাশ্রয় হবে। বাংলাদেশের আরএমজি সেক্টরে ভারতীয় এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে উচ্চপর্যায়ে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্ভাবনাময় এই সেক্টরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে, আমাদের দেশীয় স্নাতকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। কারিকুলাম পরিবর্তন করে,  বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ খুবই সীমিত। দেখা যায়, শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয় এবং তাদের আলোচনা অল্প বিস্তর বিভিন্ন অনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে সিলেবাস প্রণয়ন বা অন্যান্য দক্ষতা উন্নয়নে বৃহৎ পরিসরে তাদের ব্যবহার করা হয় না। এ জন্য গ্র্যাজুয়েটরা শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তুর ওপর পাঠ গ্রহণের সুযোগ পান না। তাই শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয় না। শিক্ষা কাঠামো তথা কারিকুলামকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খুব কাছ থেকে কাজ করতে পারেন এবং যুগোপযোগী সিলেবাস বা দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা করতে পারেন।

যুগের চাহিদানুযায়ী শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। আমাদের যুবকরা, অনেকেই বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দক্ষতা এগিয়ে নিচ্ছেন। এসব মাইক্রোলার্নিংকে এগিয়ে নিতে সরকারিভাবে সহযোগিতা বাড়াতে হবে, বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে হবে। এছাড়া যারা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে শিখছেন, তাদের উচ্চতর পর্যায়ে এগিয়ে নিতে সরকারি সহায়তায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট পেশাকে লক্ষ্য রেখে, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানে অধিকতর ফল পাওয়া যেতে পারে। স্নাতক পর্যায় থেকে বেকারত্ব নিরসন বিষয়ভিত্তিক ৬ মাস বা এক বছরের সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা যেতে পারে। যাতে করে স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণ দিয়ে সহজেই চাকরির বাজারে স্নাতক সম্পন্নকারীদের যোগদান সহজতর হয়। এতে বেকারত্ব হ্রাস করা সম্ভব হবে। বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি, শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলে, দেশের বাইরে ডিগ্রিধারীদের চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং অস্থিতিশীলতা, শিক্ষাক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধা। ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে ব্যাপক পার্থক্য এবং শহর ও গ্রামের বৈষম্য,  অসম শিক্ষা পরিস্থিতি তৈরি করছে। শিক্ষাব্যবস্থায় মূল্যবোধের অবক্ষয় আরও একটি বড় সমস্যা। আমাদের সংস্কৃতি, ধর্ম এবং নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন মানুষ গড়ার কেন্দ্রের চেয়ে, কেবল পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এবং সার্বিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে অভিভাবকরা অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। শুধু জিপিএ ৫ এবং গ্র্যাজুয়েট সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং বাস্তব দক্ষতা ও জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।

৫ আগস্ট ২০২৪-এ নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে। নবাগত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে, নতুন বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয়েছে। গণতান্ত্রিক এই উত্তরণের পর সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সার্বিক বিবেচনায়,  চাহিদাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার সূচনা করার ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা হলো : ১. কারিকুলাম পরিমার্জন করা, ২. প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া, ৩. সফট স্কিল বাড়িয়ে তোলা, ৪. গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো, ৫. শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, ৬. গুণগত মানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ প্রয়াস গ্রহণ, ৭. শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ তৈরি করার জন্য কারিকুলামে প্রাসঙ্গিক কোর্স চালু,  ৮. কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্মেষ কেন্দ্র স্থাপন,  ৯. সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থায়নের ব্যবস্থা, শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ, যাতে আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে,  ১১. ই-লানিং প্লাটফর্ম তৈরি করা যাতে করে শিক্ষকরা গুণগত মানসম্পন্ন ডিজিটাল শিক্ষা প্রদানে দক্ষ হয়ে ওঠে, ১২. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ১৩. শিক্ষায় ধনী-দরিদ্র ও লিঙ্গভিত্তিক অসমতা দূর করা। এটি অনুমেয় যে, শিক্ষা সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মযজ্ঞ। তবে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃঢ় অঙ্গীকার তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য বয়ে আনতে পারে। বর্তমান সরকার একটি গণঅভ্যুত্থানের পদ্ধতিগত (নির্বাচিত) ফসল। তাই জনআকাক্সক্ষাও বেশি। দুর্নীতিমুক্ত হয়ে, নিকট অতীত সরকারের চরম ব্যর্থতার বিপরীতে জনআকাক্সক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে অগ্রসর হলে সফলতা আসবে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এক্ষেত্রে নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে। দেশবাসী এই সাফল্যের হিতাধিকারী হবে, সেটিই বর্তমান সরকারের কাছে প্রগাঢ় প্রত্যাশা।

লেখক: উপাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়