রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদকের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে গণভোটের ওপর একটি গোলটেবিল বৈঠকের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ভেন্যু নির্ধারণের জন্য কর্তৃপক্ষকের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা। এ ছাড়াও আগামীকাল সোমবার আয়োজিত এই সেমিনারের বিষয়ে রাকসুর জিএসসহ অন্যান্য সম্পাদকদের অনেকেই জানেন না বলে জানা গেছে। 'বিনা অনুমতিতে' ভেন্যু নির্ধারণ করায় অনুষ্ঠানটি সিনেট ভবন ভেন্যুতে আয়োজনের অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা-সমালোচনার তৈরী হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাকসুর ফেসবুক পেইজের এক পোস্টে বলা হয় বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদকের উদ্যোগে ৬এপ্রিল সিনেট ভবনে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে আলোচক হিসেবে জামায়াতের সাবেক এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনির এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদকে অতিথি করা হয়েছে। তবে এই আয়োজন সম্পর্কে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন সম্পাদকসহ অনেক সম্পাদকরাই জানেন না বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও জামায়েত এবং এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এই সভার ভেন্যু সিনেট ভবন স্থান নির্ধারণে প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সিনেট ভবনে আয়োজনটি সিনেট ভবনে আয়োজনের অনুমতি দেয় না কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের একটি পোস্টে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই কোনো কোনো সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান সিনেট ভবনে কর্মসূচির আয়োজন করছে। সিনেট ভবন ব্যবহারের জন্য কিছু নিয়ম রয়েছে। তার ব্যত্যয় প্রযোজ্য বিধিবিধান ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন, যা কাম্য নয়। ওই পোস্টে আরও বলা হয়, বিধায়, সিনেট ভবন ব্যবহারের প্রয়োজন হলে বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে।
এ দিকে রাকসুর এই আয়োজন সম্পর্কে কর্মসূচি ঘোষণার আগে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, আমি এই আয়োজনের বিষষে আগে জানতাম না। গতকাল রাতে ফেসবুকে পোস্ট দেখার পর জানতে পারছি। স্বাভাবিকভাবে যেটা হয়ে থাকে রাকসুর বর্তমান বডির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার সাথে আলোচনা করার উচিত। কারণ এখানে বক্তা নিয়ে আমার কথা থাকতেই পারে। সে রাকসুর কনসার্ন নেয়নি। হয়তো সাংগঠনিক কনসার্ন ছিল। এখন জিএস হিসেবে আমার কাজ সম্পাদকদের আয়োজনের টাকা দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো বিষয়ে অধিকাংশের মতামত গৃহীত হয়। কিন্তু এখানে আমরা ৩ জনের তো আর মতামত গৃহীত হবে না। বিষয়টা সরকারি দলের কাছে যেমন বিরোধী দল কোনো বিষয় না এখানেও তেমনটাই। একই অভিযোগ করে রাকসুর ক্রিড়া সম্পাদক নার্গিস খাতুন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আগামীকালের যে প্রোগ্রাম রাকসু থেকে আয়োজন করা হয়েছে, সেটা রাকসুর একজন সম্পাদক হিসেবে কিংবা রাকসু বডির পার্ট হিসেবে অবগত নয়। রাকসুর আয়োজনে প্রোগ্রাম অথচ রাকসুর একজন সম্পাদক হিসেবে অবগত না করার জন্য বিষয়টি সরাসরি রাকসুর একাংশ হয়ে কাজ না করার স্পষ্টতা দেখছি। কর্মসূচির বিষয়ে রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর বলেন, সিস্টেম হচ্ছে প্রত্যেকটা দপ্তর স্বাধীনভাবে কাজ করবে। আর এই কাজগুলো ব্যবস্থাপনা করবে জিএস। আমার দপ্তরে আমি কি করবো, আমার দপ্তরের এজেন্ডা কি হবে, সেমিনারের বিষয় কি হবে টোটাল বিষয়টা সম্পাদক হিসেবে আমার ব্যাপার। গতকালকে আমাদের অধিবেশন ছিল সেখান থেকে এটা পাশ করে নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন অতিথি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি জুলাইয়েে আকাঙ্খাকে সমুন্নত রাখার বিষয়টা খেয়াল রেখেছি। আমার মনে হলে আমি জাতীয়তাবাদী কোনো নেতা বা বাম মতাদর্শের কাউকে রাখতে পারি তবুও জুলাই থেকে আমরা সরে দাড়াঁবো না। আমাদের আয়োজন সিনেটে করার কথা ছিল কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সেখানে এই আয়োজন করতে দিবে না এজন্য অনুমতি দেয়নি।
সিনেটে সেমিনার আয়োজনের অনুমতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিষদ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার ড. শেখ সাদ আহমেদ বলেন, আমরা এ বিষয়ে আজ অফিস টাইম পর্যন্ত কোনো লিখিত আবেদন পাইনি। সাধারণত লিখিত আবেদনের পর উপাচার্য এই বিষয় বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত জানান সেটিই কার্যকর করা হয়। এদিকে কর্মসূচিটি সম্পর্কে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেছেন, প্রোগ্রামটি করার ব্যাপারে সিনেট ভবনের অনুমতি দিচ্ছে না রাবি প্রশাসন। আমরা চেষ্টা করছি। ভেন্যু পরিবর্তন হতে পারে। তবে প্রোগ্রাম অবশ্যই হচ্ছে ইনশাআল্লাহ।