কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মাহি চৌধুরী অর্ণবকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ভুক্তভোগীরা। গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তর ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে ভুক্তভোগীরা কৌশলে মাহিকে আটক করেন। পরে প্রতারণা মামলায় তাকে জেলে পাঠায় আদালত। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
মাহি চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য।
অভিযুক্ত মাহি নিজেকে বড় মাপের ক্যাটফুট ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং রাজধানীজুড়ে তার ২০-২২টি দোকান রয়েছে বলে দাবি করতেন। এই ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি টের পেলে তারা মাহিকে আটক করেন। এ সময়ের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ওই ভিডিওতে ভুক্তভোগী আশিকুজ্জামান মোল্লা নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমরা মাহিকে আরও টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে আনি এবং পরে তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করি। হিমেল নামে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ব্যবসার কথা বলে মাহি তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কিছু টাকা ফেরত দিলেও এখনো তার কাছে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীসহ আরও অনেকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মাহির বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, মাহির বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের সহায়তায় পুলিশ তাকে আটক করে থানায় এনেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রতারণার মামলা করছে। সেই মামলায় তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত আসামিকে জেলে পাঠায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী জানান, মাহির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠন প্রায় এক মাস আগেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছিল। বর্তমানে তাকে পদে বহাল রাখার কোনো সুযোগ নেই। যারা তার মাধ্যমে প্রতারণা বা চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন, তাদের আইনি পদক্ষেপে ছাত্রদল সব ধরনের সহায়তা দেবে।
এদিকে এ ঘটনায় মাহিকে ছাত্রদল থেকে চিরস্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মাহি চৌধুরী অর্ণবকে তার সব সাংগঠনিক পদ ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।