আমদানি পণ্যের পর এবার রপ্তানি পণ্যেও জাহাজ ভাড়া বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে ইউরোপ ও আমেরিকাগামী জাহাজগুলোয় কন্টেইনার প্রতি ৮০০ থেকে ১২০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে। এসব ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত যুক্ত হচ্ছে বাড়তি ইন্স্যুরেন্স ফি ও জ্বালানি তেলের বাংকারিং (বন্দরে বা মাঝ সমুদ্রে জাহাজে তেল নেওয়ার প্রক্রিয়া) ফি। হিসাব অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রপ্তানিতে কন্টেইনার প্রতি জাহাজ ভাড়া ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে করে দিশেহারা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।
এদিকে হরমুজ প্রণালির পর যদি সুয়েজ খাল পথও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আলম সুজন জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগে ইউরোপের বন্দরগুলোয় ৪০ ফুটের প্রতি কনটেইনার পণ্যের ভাড়া ছিল ১১০০ থেকে ১২০০ মার্কিন ডলার। যুদ্ধের কারণে এই রুটে সবচেয়ে বেশি ভাড়া বেড়ে প্রায় ২৮০০ থেকে ৩০০০ মার্কিন ডলার করা হয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকার বন্দরগুলোয় আগে যেখানে ১৭০০ থেকে ১৮০০ মার্কিন ডলারে পণ্য পাঠানো যেত, এখন তা ৩০০০ থেকে ৩২০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত উঠেছে।
পরিস্থিতিতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নিয়ে কপালে ভাজ পড়তে শুরু করেছে ব্যবসায়ীদের।
এবিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, গড়ে সব রুটে ২০ শতাংশ জাহাজ ভাড়া বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভাড়া বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বন্দরগুলোয়। ইউরোপের বন্দরগুলোয় পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া বেড়েছে এবং আমেরিকার বন্দরগুলোয় বেড়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ মার্কিন ডলার। কিন্তু শিপিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তো অনেকের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে।