এক এনআইডিতে একটিই এমএফএস একাউন্ট, প্রতারণা রোধে ৭ দাওয়াই অর্থমন্ত্রীর

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা ও হ্যাকিং রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এখন থেকে একজন গ্রাহক একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে একটি এমএফএস প্রোভাইডারের অধীনে মাত্র একটি হিসাবই সচল রাখতে পারবেন। এ ছাড়া গ্রাহকের সিমটি তার এনআইডিতে নিবন্ধিত কি না, তাও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

অর্থমন্ত্রী জানান, মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা পদ্ধতিগতভাবে নিরাপদ হলেও পিন শেয়ার বা ডিভাইস হ্যাক করে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। এসব রোধে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো নিয়েছে-

এর মধ্যে রয়েছে

এক এনআইডি ব্যবহার করে একটি এমএফএস প্রোভাইডারের সাথে কেবল একটি হিসাবই চালু রাখা যাবে। গ্রাহকের মোবাইল নম্বরটি তার এনআইডিতে নিবন্ধিত কি না, তা বিটিআরসির সহায়তায় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিটিআরসির মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এমএফএস প্রোভাইডারদের মাধ্যমে পিন কোডের নিরাপত্তা ও প্রতারণা সম্পর্কে নিয়মিত টেক্সট, ভয়েস মেসেজ, ইমেইল এবং টিভিসি প্রচারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অস্বাভাবিক লেনদেন হচ্ছে এমন এজেন্টদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন এজেন্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে এমএফএস প্রোভাইডারদের নিজস্ব অভিযোগ সেলের মাধ্যমে তা কেস-টু-কেস ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস্ সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট এমএফএস প্রোভাইডারদের ঝুঁকি নিরূপণে নিয়মিত পরিদর্শন করছে।

সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) নিয়মিত রিপোর্ট করা হচ্ছে এবং তদপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া অনলাইন ব্যাংকিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ব্যাংকে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ (2FA) বা দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।