প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৭এপ্রিল যশোর যাচ্ছেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরে আসছেন। আগামী ২৭এপ্রিল তিনি যশোরে আসছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই হবে যশোর জেলায় তার প্রথম সরকারি সফর। জানা গেছে সফরকালে তিনি বহুল প্রতীক্ষিত যশোর ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত শার্শা উপজেলার উলসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সোমবার (৬এপ্রিল) রাত ৯টা ২০ মিনিটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন- `সুসংবাদ! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরে আসছেন। (সম্ভাব্য তারিখ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং)' জেলা বিএনপি সূত্রে জানা‌ গেছে, এই সফরকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহরের ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল জনসভার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, প্রধানমন্ত্রী যশোর আসবেন এটি নিশ্চিত হয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উলশী খাল ও ৫০০ শয্যার হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন। এরসর বিকেলে ঈদগাহ ময়দানে সমাবেশে অংশ নেবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে যশোর মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলেও দীর্ঘ ১৫ বছরে এখনও হাসপাতাল কার্যক্রম শুরু হয়নি। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য ৫ কিলোমিটার দূরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়। সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়ায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হলেও যশোরে না হওয়ায় ক্ষোভ ছিল স্থানীয়দের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন, যা এই অঞ্চলের চিকিৎসাসেবায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি শার্শা উপজেলার উলাসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। ৫০ বছর আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল নিয়ে এই খালের খনন কাজ শুরু করেছিলেন, যা ইতিহাসে ‘উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্প’বা ‘জিয়া খাল’নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়া এই খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় প্রাণ ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।