দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কোথাও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এমনকি হামে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে নিয়ত। হাম ভাইরাসজনিত একটি তীব্র সংক্রামক ব্যাধি। সাধারণত শিশু-কিশোররা এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তবে যে কোনো বয়সীদেরই হাম হতে পারে।
হামের লক্ষণ
সাধারণত জীবাণু সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যেই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।
শুরুতে জ্বর : আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। জ্বর হতে পারে অত্যধিক মাত্রার (১০৩-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট)
কাশি সর্দি চোখ লাল ফটোফোবিয়া বা আলোয় সংবেদনশীলতা বমি ভাব অরুচি মুখের ভেতর বিশেষ এক ধরনের স্পট (কপলিক স্পট)। লাল জায়গার মধ্যে দেখতে অনেকটা লবণের দানার মতো সাদা। সাধারণত জ্বর হওয়ার দুই তিন দিনের মধ্যে এটি দেখা দেয়। এটি হামের নিশ্চিত লক্ষণ। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চলে যায়। ফলে অনেক সময় দৃষ্টিগোচর হয় না।
গায়ে ছোপ ছোপ দাগ। কানের পেছনে কিংবা মুখ থেকে শুরু হয়ে সমস্ত শরীরে বিস্তার লাভ করে। জ্বর শুরু হওয়ার তিন থেকে পাঁচ দিন পর দাগ আসে।
জটিলতা
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। উল্লেখযোগ্য হলো: কানে ইনফেকশন ডায়রিয়া নিউমোনিয়া মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনকেফালাইটিস খিঁচুনি অন্ধত্ব
চিকিৎসা
হামের নির্ধারিত চিকিৎসা নেই। শুধু উপসর্গগুলোর চিকিৎসা করতে হয়
পর্যাপ্ত পানীয় পান করাতে হবে
খাবার স্যালাইনসহ তরল জাতীয় খাবার যেমন স্যুপ, শরবত, ডাবের পানি খাওয়াবেন।
পুষ্টিদায়ক খাবার দিতে হবে রোগীকে (অপুষ্টি আক্রান্ত শিশুর শতকরা ১০ ভাগ পর্যন্ত মৃত্যু হতে পারে)
জ্বর কমানোর জন্য গা মোছানো, ঠান্ডা জায়গায় রাখা, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো।
যদি সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয় তবে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া।
পাঁচ বছরের কম বয়সীদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো। দুই ডোজে চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই লাখ মাত্রার ভিটামিন-এ ক্যাপসুল।
চিকিৎসকের অধীনে রাখা।
ক্ষেত্র বিশেষে হাসপাতালে ভর্তি।
প্রতিরোধ
হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ। টিকা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যায়। ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ ও ১৫ থেকে ১৮ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয়। এককভাবে কিংবা তিনটি টিকা একত্র করে হামের টিকা দেওয়া যায়। এই তিনটি হলো মিজেলস, মাম্পস এবং রুবেলা। দেশে এম এম আর হিসেবে এটি দেওয়া হয়। রোগপ্রতিরোধের জন্য আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা, রোগীর পরিচর্যাকারীর নিয়মিত হাত ধৌত করা, মাস্ক ব্যবহার এবং রোগীর থালা-বাসন, গ্লাস-মগ, তোয়ালে-গামছা অন্যদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি।