ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় কমে অর্ধেকে নেমেছে

করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যাংকগুলোর খরচের পরিমাণ অর্ধেকে নেমেছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রভাব পড়েছে ব্যাংকগুলোর মুনাফায়। আয় কমে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোও সিএসআর খাতে খরচ কমিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ব্যাংকগুলো ২০২৫ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে ৩৪৫ কোটি টাকা, যা তার আগের বছর ছিল ৬১৫ কোটি টাকার বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সময় যে ব্যাংকগুলো ব্যাপক হারে সিএসআর ব্যয় করত তাদের কোনো কোনোটা লোকসানে পড়েছে। কারও কারও কমেছে মুনাফা। এ কারণে সিএসআর খাতে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক সিএসআর ব্যয় নেমে এসেছে ৩৪৫ কোটি টাকায় নামে। যা বিগত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২৪ সালে ব্যাংকগুলো সিএসআরে ব্যয় করেছে ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালে ৯২৪ কোটিতে। এ ছাড়া ২০২২ সালে ব্যাংকগুলো সিএসআর ব্যয় করে ১ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা, ২০২১ সালে ৭৫৯ কোটি টাকা হয়, ২০২০ সালে ৯৬৮ কোটি টাকা, ২০১৯ সালে ৬৪৮ কোটি টাকা, ২০১৮ সালে ৯০৫ কোটি টাকা, ২০১৭ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৭৪৪ কোটি টাকা এবং ২০১৬ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৪৯৭ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ ৪৯ কোটি টাকা সিএসআর ব্যয় করেছিল এক্সিম ব্যাংক। এরপরই প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রায় ৪৭ কোটি টাকা, মার্কেন্টাইল ও ইসলামী ব্যাংক ৪২ কোটি টাকা করে খরচ করে। যমুনা ব্যাংক খরচ করে ৩৬ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এক্সিম, প্রিমিয়ার ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে। এরপর এসব ব্যাংক শীর্ষ সিএসআর ব্যয়ের তালিকা থেকে বেরিয়ে গেছে।