অটোপাসের দাবিতে গাজীপুরে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে নাজেহালের পাশাপাশি তার গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় শিক্ষার্থীদের হামলায় বিশ^বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মীসহ অন্তত ১০ জন এবং কর্মচারীদের হামলায় ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৩ সালের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের কিছু শিক্ষার্থী অটোপাসে দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। শিক্ষার্থীদের দাবি ও বিভিন্ন বিষয় চিন্তা করে এক পর্যায়ে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১০ পার্সেন্ট গ্রেস মার্ক দিয়ে ফল প্রকাশ করে। এতে অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলেও যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি তারা অটোপাসে দাবিতে বিভিন্ন সময়ে এসে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের খাতা দেখানোর উদ্যোগ নিলেও শিক্ষার্থীরা খাতা না দেখে অটোপাস দাবি জানায়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে বিশ^বিদ্যালয় থেকে বেরুনোর সময় প্রধান ফটকে আধা ঘণ্টা ভিসির গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় কিছু শিক্ষার্থী ভিসির গাড়ির নিচে শুয়ে পড়ে। কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মী ও উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভিসির গাড়ির সামনে থেকে তাদের সরাতে গেলে শিক্ষার্থীরা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।
এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায্য দাবি এবং অন্যায় আবদারের সঙ্গে কখনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহানুভূতি দেখাতে পারে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোনো অটোপাসকে সমর্থন করে না।’
এ ছাড়া অটোপাসের দাবি নাকচ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষার গুণগতমান বজায় রাখার স্বার্থে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অটোপাস এবং গ্রেস নিরুৎসাহিত করছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একবার অটোপাস দিলে দেশের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।’