পাহাড়ে বৈসাবির সুর রাঙ্গামাটিতে পাঁচ দিনের মেলা শুরু

পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছর বরণকে কেন্দ্র করে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি উৎসবমুখর। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম এই সামাজিক অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যস্ত এখন শহর আর পাহাড়ি পল্লীগুলো। নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বৈসাবি উৎসব।

বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়কে ঘিরে চাকমারা বিজু, ত্রিপুরারা বৈসুক, মারমারা সংগ্রাই, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু ও অহমিয়ারা বিহুÑ এভাবে তারা ভিন্ন ভিন্ন নামে আলাদাভাবে পালন করে, যা সম্মিলিতভাবে বৈসাবি উৎসব হিসেবে পরিচিত।

এবার বৈসাবি উৎসব উদযাপিত হচ্ছে ভিন্ন আমেজে। এ প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান জানান, আগে শুধু তিনটা সম্প্রদায়ের অক্ষর দিয়ে বৈসাবিটা পালিত হতো। বৈসাবি বলতে ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের বিজু। কিন্তু আমাদের সরকার চায় সব জনগোষ্ঠী তাদের উৎসব নিজ নিজ নামে পালন করবে। এগুলো তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়। তাদের বঞ্চিত রাখা যাবে না।

বৈসাবি উপলক্ষে গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বর্ণিল সাজে বের করা হয় শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা নিজ নিজ জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রাটি রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সেখানে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এমপি। এরপর উপস্থিত অতিথিরা বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সম্প্র্রীতি নৃত্য পরিবেশন করা হয়। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনাসভা।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বৈসাবি উৎসব। উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক, নারীদের হাতে ও তাঁতে বোনা কাপড়, ব্যাগসহ নানান হস্তশিল্পের স্টল রয়েছে। স্টলের সংখ্যা অর্ধশতাধিক।

পাঁচ দিনব্যাপী মেলায় ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পিঠা উৎসব, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী যন্ত্র সংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঞ্চ নাটক অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ মেলা। এ ছাড়া আগামী ৯ এপ্রিল থেকে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংগ্রাই, চাংক্রান, পাতা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে হবে চার দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। ১৭ এপ্রিল মারমা সংস্কৃতি সংস্থার সাংগ্রাই জলোৎসবে শেষ হবে পার্বত্য রাঙ্গামাটির বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা।