গ্রেপ্তার ভোলা পৌরসভা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সাওদা সুমিকে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই দাবি তুলেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভোলায় জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের কর্মী সাওদা সুমি সরকারের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়ায় তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে যা সম্পূর্ণ অন্যায়, অমানবিক, নিন্দনীয় ও মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমি এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকার স্মরণ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারবিরোধী মত প্রকাশ করলেই কাউকে গ্রেপ্তার করা স্বাধীন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।
জামায়াত নেতা বলেন, বর্তমান সরকার ক্রমাগতভাবে বিরোধী মত ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কণ্ঠরোধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে। জামায়াতের নারী কর্মী সাওদা সুমির গ্রেপ্তার সরকারের দমনমূলক ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
একটি স্বাধীন দেশে মত প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ধরনের গ্রেপ্তার দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলবে এবং জনগণের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি হবে।
এছাড়াও তিনি দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী সমাজ, সাংবাদিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসমূহের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মহলকে এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নারী অধিকার নিয়ে যে সব তথাকথিত প্রগতিবাদী নারী সংগঠন অহর্নিশ মুখে ফেনা তোলেন তারা এখন নিরব কেন?
তিনি বলেন, দেশের নাগরিকদের ওপর জুলুম-নির্যাতন ও দমনপীড়ন চালিয়ে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। জনগণের অধিকার হরণ করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানোর দায় সরকারকেই নিতে হবে।
সবশেষে তিনি জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করে জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।