লালবাগ থানার এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড ও জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার শুনানিতে তিনি ২০ মিনিট কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় তাকে বিষণ্ন চেহারায় নিশ্চুপ থাকতে দেখা গেছে।
এদিন দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে পুলিশি প্রহরায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন তাকে কারাগারে আটক আবেদন করেন। পরবর্তীতে আরেকটি আবেদনে তার দুই দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।
আবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্য আসামিরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কুশীলব ছিলেন। তাদের সিদ্ধান্ত পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই মামলার ঘটনা ঘটেছে মর্মে জানা যায়। পলাতক আসামিসহ মামলার ঘটনা সংক্রান্তে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কৌশলে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান।
আসামিকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার ঘটনা সংক্রান্তে নিবিড় ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করাসহ গ্রেপ্তার এবং মামলার রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে পলাতক আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করাসহ গ্রেপ্তার এবং মামলার রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জন্য শিরীন শারমিন চৌধুরীকে পুলিশি হেফাজতে নিবিড় ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে পুলিশি প্রহরায় তাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ সময় অন্যান্য আসামির মতো তার মাথায় হেলমেট বা গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট দেখা যায়নি।
এরপর তার উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। এ সময় তিনি কাঠগড়ার সামনের লোহার রেলিং ধরে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, এই আসামি ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী। তিনি বিনা ভোটে নির্বাচিত এমপি ছিলেন। তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের একজন উপকারভোগী। এ মামলায় এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি। এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।