হুড়োহুড়িতে সিঁড়িতে পড়ে গেলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী

ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হুড়োহুড়িতে পড়ে গেছেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ সময় কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যও পড়ে যান। ৬০ বছর বয়সি শিরীন ব্যথায় চিৎকার দেওয়ার পরপরই তাকে দ্রুত টেনে তুলেন পুলিশ সদস্যরাই।

জুলাই আন্দোলনের সময় আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচের পর ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতের সিঁড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এদিনই ভোরে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শিরীন শারমিনকে গ্রেপ্তার করেন ডিবি পুলিশ।

দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহসীন উদ্দীন তার দুই দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। বেলা ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রিমান্ড আবেদন শুনানির জন্য বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়। তখন সেই কক্ষটি কানায় কানায় ভরে যায়।

কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান শিরীন শারমিন। এ সময় কয়েকজন আইনজীবী তাকে সালাম দেন। হাত উঁচিয়ে সালামের উত্তর দেন শিরীন শারমিন। মিনিটখানেক পর বিচারক জুয়েল রানা এজলাসে ওঠেন।

শুনানি শেষে আদালত তার রিমান্ড আবেদন ও জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে আবার সিএমএম আদালতে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় আওয়ামীপন্থি কয়েকজন আইনজীবী ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে শিরীন শারমিনকে তাড়াহুড়ো করে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তখন হুড়োহুড়িতে সিঁড়িতে পড়ে যান তিনি।

এদিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়ায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকালে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলন চলছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অচেনা ১১৫-১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আশরাফুল।

২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসাবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন। তাকে দেওয়া হয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। নবম সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর সেই জায়গায় আসেন তখনকার স্পিকার আবদুল হামিদ। এরপর ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। তারপর থেকে তিন মেয়াদে তিনিই টানা স্পিকারের চেয়ারে ছিলেন।