দেশে তামাক কর ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। তাই ধাপে ধাপে বর্তমান জটিল মূল্যভিত্তিক করব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে নির্দিষ্ট (স্পেসিফিক) কর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি ধূমপানের প্রবণতাও কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
গতকাল মঙ্গলবার পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) যৌথভাবে এক কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় ‘বাংলাদেশে রাজস্ব বাড়াতে তামাক করব্যবস্থার অপ্টিমাইজেশন’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ হাসনাত আলম। এ গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। কর্মশালায় ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণায় বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে ধীরগতি, রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা সব মিলিয়ে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে রাজস্ব আয়ের নতুন ও কার্যকর উৎস খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতা হলো কর-জিডিপি অনুপাতের নিম্ন হার। ২০২২ সালে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ; যা ভারত, ভিয়েতনাম কিংবা ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় অনেক কম। এ ছাড়া দেশের মোট কর আয়ের বড় অংশ আসে পরোক্ষ কর থেকে। যেমন ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর তুলনামূলক বেশি করের চাপ পড়ে। এ পরিস্থিতিতে রাজস্ব বাড়াতে কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য কর উৎস হিসেবে তামাক খাতকে আরও দক্ষভাবে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশে তামাক খাত বহু বছর ধরে সরকারের একটি বড় রাজস্ব উৎস হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে মোট সরকারি রাজস্বের প্রায় ৯ থেকে ১১ শতাংশ আসে তামাক খাত থেকে। ২০১০ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে রাজস্ব আদায় ছিল প্রায় ৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। আর ২০২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ গত এক দশকে এ খাত থেকে রাজস্ব উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে এ খাতের রাজস্ব আহরণে নির্দিষ্ট করহার প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।