ট্রাম্পকে আলটিমেটাম পেছাতে বললেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী!

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চূড়ান্ত সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে এই সময়ে ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দিতে তেহরানের প্রতিও অনুরোধ করেছেন তিনি। খবর আলজাজিরার। 

বুধবার (৮এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এই আহ্বান জানান পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে এগিয়ে চলছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে বড় কোনো ফল আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত না করে সফল হওয়ার সুযোগ দিতেই তিনি দুই সপ্তাহের এই বাড়তি সময় চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, ৮ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটামের শেষ দিন। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, আজ রাতের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। এমন চরম উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দেওয়া প্রস্তাবটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে দ্রুতই একটি আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই তথ্য জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ট্রাম্প প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং এ বিষয়ে একটি প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র নিন্দা: ‘আজ রাতে একটি আস্ত সভ্যতা বিলীন হয়ে যাবে।’- ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের এই হুমকির প্রতিবাদে ক্যাপিটল হিলে সিনেট ডেমোক্র্যাটরা একটি যৌথ নিন্দা প্রস্তাব জারি করেছেন। তারা প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে ‘অসুস্থ’ বলে অভিহিত করেছেন। ডেমোক্র্যাটদের হুঁশিয়ারি- যেসব রিপাবলিকান এই যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হচ্ছেন, এর ভয়াবহ পরিণতির দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের এই অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হাতে মার্কিন নাগরিকদের নিহত হওয়া এবং ক্রমাগত হুমকির বিষয়টি দীর্ঘদিনের উদ্বেগ। তারা মনে করেন, এখন সময় এসেছে ট্রাম্পের মতো একজন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক। ফলে ট্রাম্পের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রতি তাদের প্রকাশ্য সমর্থন রয়েছে।

ট্রাম্পের সময়সীমা পেছাতে পাকিস্তানের ‘শেষ মুহূর্তের’ প্রস্তাব: যা জানা যাচ্ছে : ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নাটকীয় মোড় নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক ‘শেষ মুহূর্তের’ আবেদনে ট্রাম্পকে এই সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে একই সময়ে ইরানকে ‘হরমুজ প্রণালি’ উন্মুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। সময়সীমা শেষ হতে ৪ ঘণ্টারও কম সময় বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান-কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে উভয় দেশই প্রস্তাবটি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।

দুই পক্ষের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া : এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও ভেতরে-ভেতরে বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তেহরান এই প্রস্তাবটি ‘ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা’ করছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রস্তাবটি সম্পর্কে ‘অবহিত আছেন’ এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ‘জবাব আসবে’।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননের তায়ার শহরের শাবরিহা এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে বাড়িঘর ছেড়ে পালানোর নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এই হুঁশিয়ারি জারি করেন।ইসরায়েলি মুখপাত্রের দাবি, ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে শিগগিরই ‘শক্তিশালী’ সামরিক অভিযান চালানো হবে।লেবাননে চলমান স্থল অভিযানের শুরু থেকেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিশাল এলাকা জুড়ে এ ধরনের বাস্তুচ্যুতির হুমকি দিয়ে আসছে। এর ফলে এখন পর্যন্ত লেবাননের ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছেন।

ইসরায়েলে আগামী কয়েক ঘণ্টা চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে কাটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ধারণা, দেশটির বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ইরান যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে।দিনভর ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহরগুলোতে হামলার তীব্রতা বেশি ছিল, যেখানে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ বসবাস করেন। এ ছাড়া দক্ষিণ অঞ্চলেও অস্থিরতা দেখা গেছে। সেখানে অন্তত দুটি ঘটনায় ইসরায়েলের বিরশেবা, দিমোনা ও তার আশপাশের এলাকা লক্ষ্য করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে।