যুদ্ধবিরতিতেও স্বাভাবিক হবে না হরমুজ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদকালেও হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে আগাম সমন্বয় করা আবশ্যক।

আরাঘচির এই বিবৃতিটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পুনরায় শেয়ার করেছেন, যা মূলত তার পক্ষ থেকে বিষয়টির একটি অঘোষিত স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি তার বিবৃতিতে বলেন, 'আগামী দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচল সম্ভব হবে, তবে তার জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।'

অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি চললেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরানের কর্তৃত্ব অটুট থাকছে। কোনো জাহাজ ইরানের অনুমতি ও সমন্বয় ছাড়া এই প্রণালী দিয়ে যেতে পারবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে তেহরান। পাশাপাশি 'প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা'র কথা উল্লেখ করে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে যে চলাচলের ওপর নির্দিষ্ট শর্ত ও বিধিনিষেধ বজায় থাকবে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়, ফলে এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।