আইপিএলের ভরা মৌসুমে বিদেশি তারকাদের চোট আর ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’-এর অজুহাতে অনুপস্থিতি নিয়ে আবারও ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রতি বিদেশি ক্রিকেটারদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিসিসিআইকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
গাভাস্কারের সাফ কথা—আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে খেলতে এসে যদি চার ওভার বল করতেই শরীর ভেঙে যায়, তবে তাঁদের দুই মাসের বাড়তি বিশ্রাম নেওয়াই ভালো। স্পোর্টস্টার-এ লেখা নিজের কলামে গাভাস্কার ‘আগে জানানো হয়েছে’ এই অজুহাতকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন।
গাভাস্কার লিখেছেন, “আগে জানানো মানে কতদিন আগে? দেশের হয়ে খেলা অবশ্যই সবার আগে, কিন্তু যে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো খেলোয়াড়দের জন্য শুধু নিজেদের মানিব্যাগ নয়, হৃদয়ও খুলে দেয়, তারা কি পূর্ণ দায়বদ্ধতা আশা করতে পারে না?”
অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স ও ক্যামেরন গ্রিনের উদাহরণ টেনে গাভাস্কার আরও বলেন, “একজন বোলার পুরো টুর্নামেন্টে বড়জোর ৫৬ ওভার বল করেন। দুই মাসে এইটুকু বল করা কি খুব বেশি চাপ? যারা নিজেদের ফিটনেস নিয়ে এত বড়াই করেন, তাদের জন্য এটি কোনো চাপই হওয়ার কথা নয়। শরীর যদি এতটাই ভঙ্গুর হয় যে এক ম্যাচে চার ওভার বল করা যায় না, তবে তাঁদের আইপিএল না খেলে ঘরে বসে বিশ্রাম নেওয়া উচিত।”
বিদেশের ক্রিকেট বোর্ডগুলোর আর্থিক সুবিধাও মনে করিয়ে দিয়েছেন ভারতের এই সাবেক অধিনায়ক। তিনি জানান, আইপিএল চুক্তির ১০ শতাংশ ফি পায় সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ড। অথচ বিশ্বের আর কোনো টি-টোয়েন্টি লিগ (এমনকি ইংল্যান্ডের ‘দ্য হানড্রেড’ও নয়) বিদেশি বোর্ডগুলোকে কোনো টাকা দেয় না।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে গাভাস্কার দেখিয়েছেন, এবারের আইপিএলে অস্ট্রেলিয়ার ১৬ জন ক্রিকেটারের মোট মূল্য ১২১.৬৫ কোটি রুপি। এরপরই আছে দক্ষিণ আফ্রিকা (৭৭ কোটি) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৬৯ কোটি)। বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করার পরও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কেন পূর্ণ সেবা পাবে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সমস্যার সমাধানে বিসিসিআইয়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে গাভাস্কার এক চরম ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি কোনো খেলোয়াড় জাতীয় দলের খেলা ছাড়া অন্য কোনো কারণে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ থেকে লভ্য না হন, তবে বিসিসিআইয়ের উচিত তাঁকে অন্তত দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা।”
কলকাতা নাইট রাইডার্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মতো দলগুলো যখন বিদেশি তারকাদের অভাবে পয়েন্ট টেবিলের নিচে ধুঁকছে, তখন ‘লিটল মাস্টার’-এর এই কড়া সমালোচনা ক্রিকেট বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।