সূর্যবংশীকে ‘ছিনতাইয়ের’ চেষ্টায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স!

আইপিএলের মঞ্চে ব্যাট হাতে ঝড় তোলা যেন অভ্যাসে পরিণত করেছেন বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বিশ্বের তামাম ব্যটারদের ত্রাস জসপ্রিত বুমরাকে যেভাবে মাঠের বাইরে পাঠালেন, তাতে মুগ্ধ ক্রিকেট দুনিয়া। গুয়াহাটির বৃষ্টিবিঘ্নিত ১১ ওভারের ম্যাচে মাত্র ১৪ বলে ৩৯ রানের সেই টর্নেডো ইনিংসের পর এখন সব মহলে একটাই প্রশ্ন—রাজস্থান রয়্যালসের এই 'বিস্ময় বালক' কি তবে খুব শীঘ্রই পাড়ি জমাচ্ছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে?

আইপিএলের দলবদলের বাজারে বৈভবকে নিয়ে এখন টানটান উত্তেজনা। ভারতীয় দলের সাবেক নির্বাচক যতিন পরাঞ্জাপের একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্ট এই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। তিনি লিখেছেন, ‘বৈভব সূর্যবংশী আজ হয়তো তার ভবিষ্যৎ দলের বিরুদ্ধেই মাঠে নামছে।’ যতিন পরাঞ্জাপে ইঙ্গিতটা যে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে নিয়ে করেছেন, সেটা আর বলে দিতে হয় না।

তিন ঘণ্টার বৃষ্টি শেষে খেলা শুরু হতেই শুরু হয় বৈভবের তাণ্ডব। ১৪ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি বিশাল ছক্কা আর একটি চার। বিশেষ করে জাসপ্রিত বুমরার বিপক্ষে তার দুটি ছক্কা ছিল চোখের আরাম। বয়সে বুমরার অর্ধেক হলেও মানসিকতায় তিনি যে দমে যাওয়ার পাত্র নন, তা হাতেনাতে প্রমাণ করেছেন বিহারের এই কিশোর। ম্যাচ শেষে খোদ হার্দিক পান্ডিয়াকে দেখা গেছে মুগ্ধ হয়ে বৈভবের পিঠ চাপড়ে দিতে।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, তারা সবসময়ই উদীয়মান গেম-চেইঞ্জারদের দলে ভেড়াতে মরিয়া থাকে। তাদের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতেও দ্বিধা করে না। অন্যদিকে, রাজস্থান রয়্যালস প্রতিভা খুঁজে বের করার কারিগর হলেও জস বাটলার বা সঞ্জু স্যামসনের মতো তারকাদের ধরে রাখতে না পারার নজির তাদের আছে। গুজরাট টাইটান্স থেকে হার্দিক পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে এনে মুম্বাই আগেই বুঝিয়ে দিয়েছে, অসম্ভব বলে আইপিএলে কিছু নেই।

২০২৫ সালের মেগা নিলামে মাত্র ১ কোটি ১০ লাখ রুপিতে বৈভবকে দলে নিয়েছিল রাজস্থান। কিন্তু বর্তমান ফর্ম বিচারে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আজ যদি নিলাম হতো, তবে ঋষভ পান্তের রেকর্ড ভেঙে অনায়াসেই ৩০ কোটি রুপির ঘর ছাড়িয়ে যেতেন বৈভব। গুঞ্জন আছে যে, ২০২৭ সালের আইপিএল নিলাম অথবা তার আগেই কোনো বড় ট্রেডের মাধ্যমে বৈভবকে দলে নিতে ওঁত পেতে আছে মুম্বাই।

ইতিমধ্যেই ভারত 'এ' দল এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন বৈভব। তার ঝুলিতে আছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পদকও। বিসিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী ১৫ বছর বয়স হওয়ায় এখন তার জন্য জাতীয় দলের দরজা উন্মুক্ত। অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি চাইলে হয়তো খুব শীঘ্রই হয়তো ভারতের নীল জার্সিতেও দেখা যাবে এই বিস্ময় বালককে।