গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল নিতে আসা এক কাভার্ডভ্যান চালককে হাইওয়ে পুলিশ মারধর করেছে এমন অভিযোগে অন্তত ৩ ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ কেের রাখে বিক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা।
গতকাল বুধবার দুপুরে মহাসড়কের জৈনাবাজার এলাকায় আহাম্মদ ফিলিং স্টেশের সামনে বিক্ষোভ ও অবরোধের ঘটনা ঘটে। এতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই লেনেই সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। বিভিন্ন যানবাহনে আটকা পড়ে প্রচ- গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন নানান বয়সের যাত্রী। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ ছিল চরমে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থল এসে পুরিস্থিতি সামাল দেয়। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে কাভার্ডভ্যান চালককে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক করতে তেল নিতে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কিছু চালক উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে মহাসড়কে অন্যসব যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশের লেনে জৈনাবাজার আহাম্মদ ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য লেন ধরে সারি করে দাঁড়িয়েছিল বিভিন্ন যানবাহন। মহাসড়কে যানবাহনের তিনটি সারি হওয়ায় মহাসড়ক সরু হয়ে পড়ে। এ সময় ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার জন্য একটি কাভার্ডভ্যান সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে দাঁড়ানো ছিল।
এক পর্যায়ে দুপুর ২টার দিকে সেখানে মাওনা হাইওয়ে পুলিশের একটি দল উপস্থিত হয়। হাইওয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্য কথাকাটাকাটির জেরে এক কাভার্ডভ্যান চালককে মারধর করেন। এ ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা একপর্যায়ে দুপুর ৩টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করে হাইওয়ে পুলিশের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
আন্দোলনরত পরিবহন শ্রমিক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘রাস্তায় যানজট হওয়ায় সেখানে কাভার্ডভ্যান চালককে দায়ী করে তার ওপর পুলিশ চড়াও হয়। প্রকৃতপক্ষে যানজটের জন্য ওই চালকের কোনো দোষ ছিল না।’
মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ মারধর করেছে এ কথাটি সত্য নয়। আমাদের দায়িত্ব মহাসড়কে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা। আমরা সে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর।’
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ ও আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে মহাসড়ক সচল করেছি। তবে পুলিশ কাউকে মারধর করেনি।’