লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক ও ব্যাপক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে লেবাননে তাণ্ডব চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রথমে জাহাজ চলাচল সীমিত করা হলেও পরে তা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘মেরিনট্রাফিক’-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজের উপস্থিতি নেই। আইআরজিসি জানিয়েছে, দিনের শুরুতে ইরানের দুটি তেলবাহী জাহাজ এবং চীনের একটি জাহাজ নিরাপদে পার হতে পারলেও ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি একটি জাহাজকে মাঝপথ থেকে বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ায় এই পথে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছিল। ইরানের দাবি, এই চুক্তির একটি প্রধান শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। তাদের ভাষ্যমতে, মার্কিন প্রশাসনও এই বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লেবাননের সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির কোনো অংশ নয়।
বুধবার লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ১৯৮২ সালের যুদ্ধের পর লেবানন এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে দেশটির অন্তত ১০০টি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে রাজধানী বৈরুতের এমন সব বেসামরিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে হিজবুল্লাহর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন এবং ১ হাজার ১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী হামলার প্রতিবাদে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল যদি হামলা বন্ধ না করে তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেবে।