১০ জনের বার্সাকে হারিয়ে সেমির পথে আতলেতিকো

ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে সমর্থকদের গগনবিদারী চিৎকারও শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনাকে রক্ষা করতে পারল না। ডিয়েগো সিমিওনের কৌশলী ফুটবলের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের পথে বড় এক ধাক্কা খেল জাভি হার্নান্দেজের দল। জুলিয়ান আলভারেজ ও আলেকজান্ডার সরলথের গোলে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বার্সেলোনাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ২০০৬ সালের পর ন্যু ক্যাম্পে এটিই আতলেতিকোর প্রথম জয়।

ম্যাচের শুরু থেকে বার্সেলোনা বল দখলে এগিয়ে থাকলেও ভাগ্য তাদের সহায় ছিল না। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত ও মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা। আতলেতিকোর হিলিয়ানো সিমিওনে যখন একা বার্সার বক্সে ঢুকে পড়ছিলেন, তখন তাঁকে ফাউল করে বসেন তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি। রেফারি ইস্তভান কোভাকস প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআর রিভিউয়ের পর সিদ্ধান্ত বদলে কুবারসিকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

বার্সার দুর্ভাগ্য যেন সেখানেই শেষ হয়নি। কুবারসির সেই ফাউল থেকে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে অবিশ্বাস্য এক গোল করে আতলেতিকোকে এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন তারকা জুলিয়ান আলভারেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে বিরতিতে যায় কাতালানরা।

বিরতির পর একজন কম নিয়ে খেললেও দারুণ লড়েছে বার্সা। বিশেষ করে মার্কাস র‍্যাশফোর্ড সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর দারুণ এক ফ্রি-কিক গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে হতাশ হতে হয় ন্যু ক্যাম্পের দর্শকদের। বার্সেলোনা যখন গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ করছিল, ঠিক তখনই প্রতি-আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোলটি হজম করে তারা। মাত্তেও রুগেরির নিচু ক্রস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সরলথ।

এই হারের ফলে আগামী মঙ্গলবার মাদ্রিদে ফিরতি লেগে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বার্সেলোনাকে। সেমিফাইনালের টিকিট পেতে হলে আতলেতিকোর মাঠে অন্তত তিন গোলের ব্যবধানে জিততে হবে জাভির শিষ্যদের, যা সিমিওনের রক্ষণাত্মক দেয়াল ভেঙে করা প্রায় অসম্ভব এক কাজ।