বার্সার হারে ক্ষুব্ধ ফ্লিক; অদ্ভূত হ্যান্ডবল ও ভিএআর কাণ্ডে তোলপাড়

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগেই বড় ধাক্কা খেল বার্সেলোনা। বুধবার রাতে ন্যু ক্যাম্পে ১০ জনের বার্সাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। তবে ম্যাচের ফল ছাপিয়ে এখন আলোচনায় রেফারির একটি অদ্ভূত সিদ্ধান্ত এবং ভিএআর বিতর্ক, যা নিয়ে ম্যাচ শেষে ফেটে পড়েছেন বার্সা কোচ হ্যান্সি ফ্লিক।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হয় ন্যু ক্যাম্প। আতলেতিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসো একটি শর্ট গোল-কিক নেওয়ার পর বল মাঠে গড়ায়। কিন্তু বদলি ডিফেন্ডার মার্ক পুবিল বলটি খেলার উপযোগী হয়নি ভেবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হাত দিয়ে থামিয়ে দেন এবং পুনরায় গোলরক্ষকের কাছে ফেরত পাঠান। নিয়ম অনুযায়ী এটি স্পষ্ট পেনাল্টি এবং পুবিলকে হলুদ কার্ড দেখানোর কথা।

কিন্তু রেফারি ইস্তভান কোভাকস গোলকিপারকে পুনরায় কিক নেওয়ার নির্দেশ দেন। এমনকি এই ঘটনায় ভিএআর যাচাই করাও হয়নি। ম্যাচ শেষে ‘মুভিস্টার’কে হান্সি ফ্লিক বলেন, ‘আমি জানি না ভিএআর কেন হস্তক্ষেপ করল না... এটি অবিশ্বাস্য! আমরা সবাই ভুল করি, কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে ভিএআর না থাকার মানে কী? এটি পরিষ্কার পেনাল্টি এবং ওই খেলোয়াড়ের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড হওয়া উচিত ছিল।’

বার্সা ডিফেন্ডার জেরার্ড মার্টিনও কোচের সুরে সুর মিলিয়ে একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। ম্যাচের প্রথমার্ধের ঠিক আগে তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির লাল কার্ড বার্সার ছন্দ নষ্ট করে দেয়। জিলিয়ানো সিমিওনেকে ফাউল করায় তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। সেই ফ্রি-কিক থেকেই অসাধারণ গোল করে আতলেতিকোকে এগিয়ে দেন হুলিয়ান আলভারেজ।

দ্বিতীয়ার্ধে আলেকজান্ডার সরলোথ দ্বিতীয় গোলটি করলে বার্সার হার নিশ্চিত হয়। কুবার্সির লাল কার্ড নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ফ্লিক বলেন, ‘বল পেছনে ছিল, কুবার্সি তাকে (সিমিওনে) ফাউল করার মতো যথেষ্ট স্পর্শ করেছিল কি না আমি নিশ্চিত নই।’

২০০৬ সালের পর এই প্রথম ন্যু ক্যাম্পে জয়ের দেখা পেল দিয়েগো সিমিওনের দল। অন্যদিকে, ইতিহাসে বার্সেলোনা এর আগে কখনোই চ্যাম্পিয়নস লিগের নক-আউট পর্বে প্রথম লেগে ঘরের মাঠে হেরে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি। তবে এই কঠিন সমীকরণ সত্ত্বেও ফিরতি লেগ নিয়ে আশাবাদী ফ্লিক। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখি। ১০ জন নিয়ে আমরা দ্বিতীয় হাফে দারুণ খেলেছি। মাদ্রিদে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’