ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের মুখামুখি সংঘর্ষে রিয়াদ হাসান জাহিদ (১৮) ও অপরজন হাজির উদ্দিন (৬৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অত্যন্ত আরো ৩ জন আহত হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের বৈরাটি গোরস্থান দারুল ইসলাম মাদরাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই বন্ধুর বাড়ি উপজেলার মাইজ-বাগ ইউনিয়নের সাধরগোলা গ্রামে। প্রয়াত জাহিদ ওই গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে এবং জিম মোস্তফা কামালের ছেলে।
ঘটনারদিন নিহত জাহিদের বন্ধু মাহমুদ হাসান জিমকে গুরুত্বর আহত উদ্ধার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে রেফার করে। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হলে স্বজনরা তাকে ঢাকার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহিদ মারা যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর গতকাল বুধবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৫ টার দিকে তার বন্ধু মাহমুদ হাসান জিমও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত (৮ এপ্রিল) বুধবার জাহিদের জানাজা ও (৯ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় (একই সময়ে) সাধুরগোলা বাইতুল কোরআন মাদরাসা ও মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বাড়ি ছিল দুই বন্ধুর। জাহিদ মাইজ-বাগ পাছপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালে এসএসসি পাশ করে ও জিম দক্ষিণ সাটিহাড়ি দাখিল মাদরাসা থেকে এবছর দাখিল পরীক্ষার্থী ছিল। জাহিদ ও জিম শুধু বন্ধুই ছিলেন না, ওরা ছিলো মানবিক স্বেচ্ছাসেবক। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'রক্তদানে আমাদের মাইজ-বাগ'-এর উদীয়মান তরুণ স্বেচ্ছাসেবক।
জিম-জাহিদের বন্ধু রাফি ও নাঈম বলেন, ছোট বেলা থেকেই আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি। খাওয়া ও ঘুম বাদে সারাক্ষণ একসাথে থাকতাম। কোথাও ট্যুরে যাওয়ার পরিকল্পনা হলে একজনকে ছাড়া আমরা কেউ ঘুরতে যেতাম না। মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগেও ওদের কল দিয়েছিলাম বিকালে একসঙ্গে আড্ডা দিবো বলে। কিন্তু তা আর হলো না, আমাদের একা ফেলে চলে গেলো দুই বন্ধু। আমাদের এখনো মনে হচ্ছে জাহিদ ও জিম বেঁচে আছে। বাতাসে কানে ভেসে আসছে ওদের কণ্ঠস্বর, মনে হচ্ছে ওরা ডেকে বলছে-বন্ধু চল ঘুরতে যাই! তোরা ওপারে ভালো থাকিস বন্ধু, সেখানে দেখা হবে তোদের সাথে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ঘটনারদিন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই। এতে দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে আরও একজন মারা যায়। নিহতদের মধ্যে জাহিদ ও জিম দুইজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। নিহতদের পরিবারের বিনা ময়নাতদন্তের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়। সত্যিই এটি দুঃখজনক একটি ঘটনা।