টেলিকম ও গণমাধ্যম নীতিমালা সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী

টেলিকম নীতিমালা (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার-এনইআইআর), গণমাধ্যম নীতিমালাসহ বেশ কিছু বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এসব বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। টেলিকম নীতিমালা নিয়ে তিনি বলেন, ‘তিন দিন আগে টেলিকম উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এটা নিয়ে কাজ চলছে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামে (ইআরএফ) আয়োজিত এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা। এতে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম ও ইআরএফের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকারে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে সরকারের সব সংস্কার কার্যক্রমে নজরদারি করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক এবং সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমসহ সব খাতের সংস্কারে তাত্ত্বিক নয়, প্রায়োগিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বর্তমান সরকার বেশি জোর দিচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও টেলিকম নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আসবে বিএনপি সরকার। এ ছাড়া রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলোর জন্য একটি কমিটি গবেষণা প্রতিবেদনের কাজ শুরু করেছে। যেখান থেকে পাওয়া মূল্যায়ন বিবেচনায় নিয়েই এগুলোর সংস্কার করা হবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং সিস্টেমের আদলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সম্প্রচার ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা হবে। এ ছাড়া সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড কারা দিচ্ছে, কারা দিচ্ছে না এ বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করবে সরকার। এ ছাড়া মিডিয়ার সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত একটি বিজ্ঞাপন নীতিমালা তৈরির বিষয়টিও বিবেচনাধীন। তিনি বলেন, সার্কুলেশন নিয়ে মিথ্যা তথ্য ও সামষ্টিক প্রতারণা বন্ধ করতে হবে। সাইবার জগতে নৈরাজ্য ঠেকাতে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে সরকার।

নিউএইজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, একটা লিপ্ততা এবং অপরটি নির্লিপ্ততার সাংবাদিকতা। আমাদের লিপ্ততার সাংবাদিকতা বেছে নিতে হবেযেখানে সব অনিয়ম, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখবেন সংবাদিকরা।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জাতির সংকটকালে সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিজম করার দরকার আছে। তবে সেটা যাতে দলীয়করণ না হয়, সেদিকে নজর রাখার পরামর্শ প্রদান করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বলেন, ‘আমি হতাশকারণ আমি অংশ ছিলাম। কমিশনের প্রতিবেদন ২০২৫ সালের মার্চে দিয়েছি। সেই সময়ের সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাদের কাছে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলো আলাদাভাবে দেওয়ার জন্য বলে। সেগুলো দেওয়ার পরও এতটুকু বাস্তবায়ন হয়নি।

অনুষ্ঠানে ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সাংবাদিকের ওয়েজ বোর্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেনশন বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হলেও ন্যূনতম বেতন কাঠামো নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। অথচ ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কাঠামো নির্ধারণের পর এতে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি। অথচ সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা এর মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ২০১৮ সালে সরকার নবম বেতন কাঠামো ঘোষণা করেছিল, যা শুধু বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ছাড়া কোথাও বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, বেতন-ভাতার কাঠামোই যদি ঠিক না থাকে, তাহলে পেনশন সুবিধা পাওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকরা টিকবে কি করে?