খনা’র শততম মঞ্চায়ন উৎসব

বটতলা’র আলোচিত নাটক ‘খনা’র ১০০তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। মোহাম্মদ আলী হায়দারের নির্দেশনায় খনা নাটকটি এমন এক আখ্যানের মঞ্চকৃতি; যা নারী ও শ্রেণির প্রশ্নকে সামনে আনে। ২০১০ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শততম বর্ষপূর্তিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহস্র সাধারণের সামনে মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নাটকটির যাত্রা শুরু করেছিল। দীর্ঘ ১৬ বছরে দেশ-বিদেশে দর্শকনন্দিত হয়েছে এই নাটক; আলোচিত থেকেছে নাট্যাঙ্গন ও বিদ্যায়তনিক পরিমণ্ডলে; আর বটতলার কাছে হয়ে উঠেছে প্রাণ-স্পন্দনের সমার্থক এক সত্তা। নির্দেশক মোহাম্মদ আলী হায়দার বলেন, ‘খনার শততম মঞ্চায়নের প্রহরে অতীত আর বর্তমানকে এক সুতোয় গেঁথে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেই দানা বাঁধছি আবার। আজ ও আগামীকাল আয়োজিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘খনার ১০০তম মঞ্চায়ন উৎসব’। লীলাবতীর প্রকৃতিজ জ্ঞানকাণ্ডের সূত্র ধরে আমরা আসর সাজিয়েছি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা নিয়ে।’

আজ শুক্রবার সকালে শিল্পী ও অ্যাক্টিভিস্ট অরূপ রাহীর পরিচালনায় ‘উদয়ভানু সঙ্গ’ অধিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর থাকবে আমন্ত্রিত শিল্পীদের যন্ত্রসংগীতের (সরোদ, বেহালা) পরিবেশনা ও গান। সকালের অধিবেশনে থাকছে শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন। ব্রতচারী নৃত্য, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গান, আবৃত্তি পরিবেশনার পাশাপাশি থাকবে মৃৎশিল্পী খোকন কারিগরের পরিচালনায় ‘মাটির পাঠশালা’ এবং চিত্রশিল্পী মনজুর রশীদের পরিচালনায় ‘আঁকিবুকিতে বসন্ত’ শীর্ষক আর্ট ক্যাম্প। মেলা প্রাঙ্গণে শিশুদের বাড়তি আনন্দ জোগান দেবে কাকতাড়–য়া পাপেট থিয়েটার। 

দিনের দ্বিতীয় ভাগে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা প্রদর্শন করবেন টাঙ্গাইলে মরহুম কুদরত আলী লাঠি খেলা দল এবং ঐতিহ্যবাহী ধুয়া গান পরিবেশন করবেন কুমার গাতা ওয়াসিম বয়াতির দল ও মাহমুদপুর আজিজুল বয়াতির দল। এই জনপদের লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে শুধু পরিচয়ই নয়, দর্শনার্থীরা বরং বিষমুক্ত শাকসবজি ও দেশীয় খাবারের স্বাদও পরখ করতে পারবেন প্রকৃত সমাজ-এর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিতব্য ‘দেশীয় পণ্যের মেলা’য়। সেখানে কৃষিপণ্যের সঙ্গে থাকবে কারুপণ্য, পোশাক এবং বইপত্রের পসরা!