বিপাশা হায়াত। নামটা শুনলেই এক শ্রেণির দর্শকের চোখে ভেসে ওঠে সেই নব্বই দশকের শোবিজের সাড়া জাগানো একটি মুখ। মঞ্চ থেকে টিভি ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে যেমন মুগ্ধ করেছেন দর্শককে, তেমনি মডেলিংয়েও দ্যুতি ছড়িয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নাট্যকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। আলোকিত এই বহুমুখী প্রতিভা ২০১৯ সালে হঠাৎ করেই অভিনয়ের জগত থেকে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে অভিনয় না করলেও সংসারের পাশাপাশি তার প্রিয় আঁকাআঁকিকে আঁকড়ে ধরে আছেন ঠিক আগের মতোই। প্রায় সাত বছরেরও বেশি সময় পর কিছুদিন আগে দেশে এসেছেন তিনি। এসেই প্রথমবারের মতো কোনো পডকাস্টে অংশ নেন।
মাছরাঙা টিভির দর্শকপ্রিয় পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’র বিশেষ পর্বে অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি। অনুষ্ঠানটি গত শনিবার প্রচার হলেও সপ্তাহজুড়েই চলছে বিপাশা-বন্দনা। গেটাপ-মেকাপ, পোশাক-আশাক, কাঁচা-পাকা চুল, পুরনো সেই বাচনভঙ্গি দেখে নতুন প্রজন্মের দর্শকের মধ্যেও সৌরভ ছড়ান এই তারকা। নতুন বিপাশা যেন তার সহকর্মীদেরও রীতিমতো চমকে দেন। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে সেই সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলার আলাদা আলাদা অংশগুলোও মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। বয়স, চুলে রং করা, বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব, সালমান খানের সঙ্গে অভিনয়ের কথাবার্তা, বলিউড থেকে ডাক আসাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বিপাশা। আর বিপাশার এসব বক্তব্য শুনে অনেকেই নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অভিনেত্রীকে নিয়ে আলাদা আলাদা পোস্ট করেছেন অনেক অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতারাও।
বিপাশায় মুগ্ধ হয়ে নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ইন্টারভিউ পুরোটাই না টেনে, কোন দিকে না তাকিয়ে এক সিটিংয়ে দেখলাম। কী আর বলব। তুমি যে বিপাশা, বিপাশা হায়াত এমনই তো হওয়ার কথা ছিল। তুমি কী, কেমন, কেমন ভাবনা, চিন্তা চেতনা মননে, বিশ্বাসে! এমনই তুমি। তোমার কথাগুলোর প্রতিটি শব্দ, আবেগ, খুব আপন আর চিরচেনা। তোমাকে ৩৬ বছর ধরে কাছ থেকে দেখেছি। তোমার সব কথায় আমি কিন্তু একটুও অবাক হইনি। বিশ্বাস করো, একটুও অবাক হইনি। মুগ্ধ হয়েছি। মাঝেমধ্যে কিছু কথায় চোখ ভিজেছে।’
ঢাকায় ফিরে বিপাশা আবারও হাতে তুলে নিয়েছেন রংতুলি। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের বারান্দায় বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে নবীন শিল্পীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিমগ্নচিত্তে মুখোশে রং মেলাতে দেখা গেছে তাকে। এক ফাঁকে তিনি বলেন, ‘আমি যেখানেই থাকি, সবসময় বাংলাদেশকে মিস করি। পহেলা বৈশাখ এলে মনে হয়, আমি আমার দেশেই আসি। শারীরিকভাবে না থাকলেও মানসিকভাবে সবসময় থাকি।’