জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গতকাল বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন, রেলপথ এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো ও রপ্তানি খাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে এ তথ্যগুলো উত্থাপিত হয়।
এসি বাসের ভাড়া ও ডিজিটাল ডিসপ্লে : গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে শিগগিরই এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা প্রণয়ন করা হবে। বর্তমানে শুধু নন-এসি বাসের ভাড়ার তালিকা থাকলেও দ্রুতই এসি বাসের তালিকা তৈরি করে বাসের অভ্যন্তরে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিআরটিএর ওয়েবসাইটের পাশাপাশি এই ডিজিটাল ডিসপ্লে যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে ভোগান্তি কমাতে সাহায্য করবে।
এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর মাত্র ৩৫ মিনিটে : ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী জানান, উত্তরা ও সংলগ্ন এলাকার যানজট নিরসনে বিআরটি প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ২০.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্প পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হলে এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৩৫-৪০ মিনিট। এ ছাড়া যানজট নিরসনে ও উন্নত সেবা নিশ্চিতে বিআরটিসির মাধ্যমে ৩৪০টি নতুন সিএনজিচালিত এসি বাস সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে মেট্রোরেল (এমআরটি) লাইন ১-এর নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে।
রেলবহরে ২০০ ভারতীয় ব্রডগেজ কোচ : সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লার এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে শেখ রবিউল আলম সংসদকে জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। জুন ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ সালের মধ্যে এই কোচগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে। এই নতুন কোচগুলো পাওয়া গেলে যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন রুটে নতুন ট্রেন চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১৩৮ দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য : সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বের ১৩৮টি দেশে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। রপ্তানি আরও বাড়াতে এবং পণ্যের মানোন্নয়নে ঢাকা ও খুলনায় দুটি আধুনিক পাটপণ্য পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও বীজ উৎপাদনের জন্য একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মানসম্মত পাটজাত পণ্য রপ্তানি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।