বিশ্বকাপে তুরুপের তাস হতে পারেন এস্তেভাও: ডেভিড আনচেলত্তি

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল যখন নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে, তখন এক নতুন বিস্ময় বালকের নাম শোনালেন কার্লো আনচেলত্তির ছেলে তথা সেলেসাওদের সহকারী কোচ ডেভিড আনচেলত্তি। চেলসির ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার এস্তেভাও উইলিয়ান হতে পারেন এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক—এমনটাই বিশ্বাস রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক এই সহকারী কোচের।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব আসরে বাবা কার্লো আনচেলত্তির সহকারী হিসেবে ডাগ-আউটে থাকবেন ডেভিড। বিবিসি রেডিও ৫ লাইভের এক পডকাস্টে তিনি বলেন, “এমন একজন আপনাদের চমকে দিতে পারে, যাকে হয়তো বিশ্ব এখনো সেভাবে চেনে না। আমাদের আক্রমণভাগে অনেক প্রতিভা আছে, কিন্তু যদি একজনের নাম বলতে হয়, তবে এস্তেভাও ব্রাজিলের উদীয়মান প্রতিভাদের মধ্যে অন্যতম সেরা।”

চেলসির জার্সিতে এস্তেভাওয়ের সাম্প্রতিক ফর্মও তাঁর পক্ষেই কথা বলছে। ২৯ মিলিয়ন পাউন্ডে পালমেইরাস থেকে লন্ডনের ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর ৩৪ ম্যাচে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন এই কিশোর। এমনকি ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে নেইমারের রেকর্ড ভেঙে ১৮ বছরের কম বয়সী প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ২০টি গোল ও অ্যাসিস্টের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। গত সপ্তাহে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পোর্ট ভেলের বিপক্ষে চেলসির ৭-০ গোলের জয়েও তিনি ছিলেন গোলদাতার তালিকায়।

তবে এস্তেভাওয়ের স্বপ্ন তার শৈশবের নায়ক নেইমারের সঙ্গে বিশ্বকাপ খেলা। কিন্তু ৩৩ বছর বয়সী নেইমারের অন্তর্ভুক্তি এখনো অনিশ্চিত। চোটের কারণে ২০২৩ সাল থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমার গত জানুয়ারিতে সান্তোসে ফিরলেও ফিটনেস সমস্যায় ভুগছেন। দাভিদে আনচেলত্তি জানান, ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে এবং সেখানে নেইমারের অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা করা হতে পারে। ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করে নেইমার ইতোমধ্যেই পেলের রেকর্ড ছাড়িয়ে ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা গোলদাতা।

নেইমারকে নিয়ে সংশয় থাকলেও সেলেসাওদের মূল ভরসা এখন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ডেভিড বলেন, “ভিনিসিয়ুস এখন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা। কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তার ওপরও প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী।” তবে ভিনিসিয়ুসের ক্যারিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বর্ণবাদ। স্পেনে পা রাখার পর গত আট বছরে প্রায় ২০টি বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি। সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বেনফিকার বিপক্ষে ম্যাচেও এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয় তাঁকে।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ২০০২ সালের পর আর সোনালি ট্রফিটা হাতে নিতে পারেনি। তবে আনচেলত্তি জুনিয়র আত্মবিশ্বাসী যে, এবার তারা প্রস্তুত। প্রচণ্ড গরম আর দীর্ঘ মৌসুমের ক্লান্তির চ্যালেঞ্জ থাকলেও কৌশল আর তারুণ্যের মিশেলে ব্রাজিল এবার শিরোপা পুনরুদ্ধারে নামবে। ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করবে ব্রাজিল, যেখানে তাদের গ্রুপ সঙ্গী হিসেবে থাকছে স্কটল্যান্ড ও হাইতি।