ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস বলে বিক্রি, গ্রেপ্তার ৫

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় রুগ্ন ও বয়স্ক ঘোড়া জবাই করে তা গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির অভিযোগে একটি চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মিনহাজুল ইসলাম। 

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ফিরোজ কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) হুমায়ুন রশিদসহ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও গজারিয়া থানা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চক্রের মূল হোতা রাজিব সিকদার (৪০), রুবেল (৩৯), সৌরভ (২১), সোহেল গাজী (২১) ও ইয়াছিন আরাফাত (২১)। তারা সবাই গজারিয়া উপজেলার আনারপুরা এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ এপ্রিল সকালে আনারপুরা এলাকায় কিছু ব্যক্তি রুগ্ন ও বয়স্ক ঘোড়া জবাই করছে— এমন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে গজারিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব ও বাসন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাদের গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে যমুনার চরাঞ্চল থেকে রুগ্ন ও বয়স্ক ঘোড়া সংগ্রহ করত। পরে এসব ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাত করে পিকআপে ঢাকায় এনে সহযোগীদের মাধ্যমে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করা হতো।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, ঘটনার দিন মোট ৯টি ঘোড়া জবাই করা হয় এবং একটি অসুস্থ ঘোড়া জীবিত ছিল। চক্রটি তিনটি স্তরে কাজ করত। তাদের মধ্যে একটি দল ঘোড়া সংগ্রহ করত, একটি দল জবাই করত এবং আরেকটি দল ঢাকার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে এসব মাংস বিক্রি করত। গজারিয়ার এই গ্রুপটি মূলত জবাইয়ের সময় নিরাপত্তা দিয়ে মোটা অংকের অর্থ পেত।

তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।