এসো হে বৈশাখ...

নববর্ষের মেলায়

সাঈদুর রহমান লিটন

 

খুব আনন্দ মনের মাঝে

নববর্ষ এলে,

মনের ভেতর শান্তি লাগে

পান্তা ইলিশ পেলে।

 

নতুন নতুন জামা পরে

মেলায় মেলায় ঘুরি,

মেলায় এত জিনিস ওঠে

তার নাই তো জুড়ি।

 

মেলায় ওঠা মিষ্টি খেয়ে

খুশিতে তাই নাচি,

দোলনাতে দোল দিয়ে

খুব খুশিতে আছি।

 

হাতি কিনি ঘোড়া কিনি

আরও কিনি পাখি,

মেলায় অনেক খেলনা দেখে

ঝিলিক মারে আঁখি।

দাদু নাতির বৈশাখ

সোমা মুৎসুদ্দী

 

গুটি গুটি পায়ে ওই বৈশাখ আসে রে

দাদু নাতি খই নাড়ু খেতে ভালোবাসে রে।

 

সবজির পাচনের ম ম গন্ধ

বৈশাখ নিয়ে এলো বৈশাখী ছন্দ।

 

জমে ওঠে মেলা তাতে যায় নাতি দাদু রে

নাতির মিষ্টিমুখ খুব বেশি আদুরে।

 

মাটির খেলনা আর ঢোল পাখা বাঁশি

তার সাথে উৎসব খুশি আর হাসি।

 

রবীন্দ্রসংগীতে বৈশাখ ডাকে রে

তার সাথে খুশি রঙ দাদু নাতি মাখে রে।

 

পান্তা ইলিশ খেয়ে দাদু নাতি খুশি বেশ

 বৈশাখে জমে ওঠে বাঙালির এই দেশ।

কালবৈশাখী ঝড়

সারমিন চৌধুরী

 

ডাকছে গগন গুড়ুম গুড়ুম

বাজছে খুশির বীণ,

বৈশাখ মাসে দেখা মেলে

কালবৈশাখী দিন।

 

বৃষ্টি জলে আনন্দ মনে

নাচ জুড়েছে পুঁটি,

আম কুড়িয়ে খুকু হচ্ছে

খুশিতে লুটোপুটি।

 

মাঠ হাসছে নড়ছে পাতা

ব্যাঙের ঘ্যাঙর ডাক,

খাল-বিলে একটানা

মারছে বকে হাঁক।

 

কিলবিলিয়ে ঘুরে বেড়ায়

মাগুর, শিং, কই,

কালবৈশাখী ঝড়ের দিনে

কেমনে ঘরে রই।

কাঁচা আমের ভর্তা

সৈয়দ আহম্মেদ সাদি

 

বৈশাখ মাসের আগাম বার্তা

মেঘ ডাকে কর কর।

বিজলী জ্বলে ওই আকাশে

আসল ধেয়ে ঝড়।

সবুজ পাতায় বাতাস লেগে

সুর বাজে শন শন।

টিনের ঘরের বেড়া কাঁপে

ঝন-ঝনা, ঝন-ঝন।

খোকাখুকুর সাহস দেখে

অবাক হয়ে যাই।

ঝুড়ি হাতে কোথায় গেল?

ঘরে তারা নাই।

খানিক পরে ঝড় থেমেছে

ওরা দিল ডাক,

আম এনেছি কোথায় মাগো

কাটো আম চাক-চাক।

আমের ভর্তা সবাই মিলে

নুন মরিচে খাই।

সবুজ ফলে ভিটামিন সি

খেতে মানা নাই।