বাংলা নববর্ষ উদযাপনের স্মৃতি

পহেলা বৈশাখ, নববর্ষের প্রথম দিন। সেদিন নতুন বছর শুরু হয়। বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘বাংলা নববর্ষ’। এক কথায়, নববর্ষ মানেই নতুন সাজে নিজেকে প্রকাশ করার দিন। বছর ঘুরে চারদিকে আবারও বৈশাখী উৎসবের সাজ দেখে মনে পড়ে যায় বর্ষবরণের অতীতের স্মৃতি। নতুন বছরের দিন সকালে মাছভাজা, ভর্তা দিয়ে পান্তাভাত খাওয়া শেষ হতেই সন্দেশ ও মিষ্টি মুখে তুলে দেন মা। তারপর নতুন রঙিন জামা পরে বাবার সঙ্গে আনন্দ র‌্যালিতে যোগ দেয়। সাদা, লাল, কমলা রঙের পোশাকে বড়দের সঙ্গে শত শত ছোট শিশুরাও র‌্যালিতে অংশ নিয়েছেন। দাদার মুখে শুনেছি, বহুকাল আগে নাকি এ দিনে হালখাতা, বড়মেলা, যাত্রাপালা, গানের আসর ও বিভিন্ন ধরনের মজার খেলা হতো। র‌্যালি থেকে এসে বাবা ও মায়ের সঙ্গে চলে এলাম বৈশাখী মেলায়। মেলা প্রাঙ্গণের প্রতিটি স্টলে তালপাতার পাখা, মুখোশ, মাটির ঘোড়া, হাতি, পতুল, লাটিম, ঘুড়ি, বাঁশি, বেলুন, টমটম গাড়ি, জিলাপি, নিমকি, বাতাসা, মুড়ি, নাড়ু, সন্দেশ আরও কত কি পাওয়া যায়। মেলায় সাপ-বেজির লড়াই আর বাঁশির সুর মন কাড়ে আমার। চড়কি হচ্ছে মেলার মূল আকর্ষণ। একটু এগিয়ে চড়কি আর ট্রেনে চড়েছি। সারা বিকেল মেলা ঘুরে আমার প্রিয় হাওয়াই মিঠাই, মাটির তৈরি খেলনা আর দড়ি দিয়ে টমটম চালিয়ে বাড়ি ফিরেছি। এ বছরও নববর্ষ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি আমার। পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য চৈত্র মাসের শুরুতেই বাজার থেকে নতুন জামা, মুখোশ, চশমা বাবা কিনে দিয়েছেন। নববর্ষে সারা দিন আনন্দ-উল্লাসে ঘুরে বেড়াব। মেলায় গিয়ে মুখে ‘এসো হে বৈশাখ’ আলপনা আঁকাব। আর আমার প্রিয় খেলনা ও খাবার কিনে আনব।

রুদ্রদীপ পাল

শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় শ্রেণি, টঙ্গিবাড়ী সানরাইজ কিন্ডারগার্টেন, টঙ্গিবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ