কোরবানি ঈদে মুক্তি পাবে ‘রইদ’

‘হাওয়া’ দিয়ে সিনেমা হলে ঝড়ো হাওয়া তুলেছিলেন মেজবাউর রহমান সুমন। দেশ-বিদেশে দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন ছবিটি দেখতে। সেই হাওয়ার পর এবার নতুন সিনেমা নির্মাণ করেছেন সুমন। তার নতুন সিনেমার নাম ‘রইদ’। গত বছর সিনেমাটির শুটিং শেষ হওয়ার খবর জানিয়েছিলেন তিনি। এবার জানালেন, আগামী কোরবানি ঈদে মুক্তি পাবে ‘রইদ’।

যদিও প্রথম দিকে নির্মাতা জানিয়েছিলেন দুই ঈদের মাঝামাঝিতে মুক্তির পরিকল্পনা করছেন সিনেমাটি। তবে সে পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন নির্মাতা। করছেন মুক্তির নতুন পরিকল্পনা।

নির্মাতা নিজেই খবরটি নিশ্চিত করেছেন। সুমন বলেন, ‘কোরবানি ঈদকে ঘিরেই পরিকল্পনা আমাদের। ওই সময় ছবিটি মুক্তি দিতে চাই। সেভাবেই এগোচ্ছি। কয়েক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির ঘোষণা দিতে পারব আশা করছি।

গেল বছরের শেষে পোস্টার ও ট্রেলার প্রকাশ করা হয়েছিল সিনেমাটির। সে সময় মুগ্ধতা ছড়ায় দর্শকদের মধ্যে। এরপর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম তথা আইএফএফআর-এর ৫৫তম আসরে অংশ নেয় সিনেমাটি। সেখান থেকে পুরস্কার ঘরে নিয়ে ফিরতে না পারলেও ফেরেন দর্শকদের একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে। পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন জানান উৎসবে বৃষ্টি, শীত উপেক্ষা করে ‘রইদ’-এর উত্তাপ নিয়েছেন দর্শক।

‘রইদ’ গড়ে উঠেছে সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীকে নিয়ে। মূল পাত্র-পাত্রী নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। এ ছবিটির সেট তৈরিতে ফাঁকা জায়গায় প্রায় ৫০ হাজার গাছ লাগিয়েছিলেন পরিচালক।

দীর্ঘ ছয় মাস ধরে সেই গাছগুলোর নিবিড় যতœ নেওয়া হয়েছিল, পুরো এলাকাটি যেন সিনেমার সঙ্গে মিশে যায়। গল্পের প্রয়োজনে কোনো কৃত্রিম গ্রাফিক্স নয়, বরং শুটিংয়ের প্রয়োজনে নির্মাণ করা হয় একটি বাড়ি। নির্মাতা বলেছিলেন, ‘লোকেশনকে কেবল ব্যবহার নয়, বরং লোকেশনকে গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলতেই এই কঠোর পরিশ্রম।’

সুমন আরও জানান, ‘রইদ’ একটি প্রতীকী ও বহুমাত্রিক আখ্যান। এখানে সাধু, তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রী এবং তাদের বাড়ির পাশের তালগাছকে কেন্দ্র করে গল্পটি আবর্তিত হয়েছে। এই দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।

নির্মাতার ভাষ্যে, এই চলচ্চিত্রে তিনি হাজার বছরের পুরোনো আখ্যানকে সমসাময়িক অনুভূতির ভেতর দিয়ে পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করেছেন। এতে গ্রামীণ বাংলার নান্দনিকতা ও চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের শিল্পভাবনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

শুরুতে ‘রইদ’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জয়া আহসান। বছর কয়েক ছবিটির ঘোষণা দিয়েছিলেন সুমন। ছবির প্রযোজক ছিলেন জয়া। ২০২০-২১ অর্থবছরে ছবির জন্য ৬০ লাখ টাকার সরকারি অনুদানও পেয়েছিলেন। তবে কাজ শুরু হতে বিলম্ব হওয়ায় সরে দাঁড়ান অভিনেত্রী। অনুদানের টাকা ফেরত দেন। পরে ছবিটি প্রযোজনা করে বঙ্গ।

সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি এবং মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত ও আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ অনেকে।

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত প্রথম সিনেমা ছিল হাওয়া। মুক্তি পায় ২০২২ সালের ২৯ জুলাই। বঙ্গোপসাগরের একেবারে মধ্যখানে সেন্টমার্টিন দ্বীপে হয়েছিল শুটিং। মুক্তির পর দেশে ও বিদেশে দারুণ সাড়া মেলে। সিনেমাটি বাংলাদেশের সিনেমা হিসেবে প্রথম ইউএস টপ চার্টে উঠে এসেছিল।

ছোট পর্দায় প্রতিষ্ঠিত নির্মাতাদের একজন মেজবাউর রহমান সুমন। ২০০৬ সালে তার নির্মিত প্রথম নাটক ‘দক্ষিণের জানালাটা খোলা, আলো আসে-আলো ফিরে যায়’ প্রশংসিত হয়েছিল দর্শক মহলে। এরপর তিনি ‘তারপরও আঙ্গুরলতা নন্দকে ভালোবাসে’, ‘পারুলের দিন’, ‘জ্যোৎস্না নদী ও রফিকের কিছু কল্পদৃশ’, ‘সুপারম্যান’, ‘কফি হাউস’সহ বেশ কিছু নাটক নির্মাণ করেছেন।