ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঐতিহাসিক সংলাপকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এখন কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের আলোচনায় বসাকে ঘিরে শহরজুড়ে বিরাজ করছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নূর খান বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায়। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তাদের স্বাগত জানান। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দলও একই দিনে ইসলামাবাদে পৌঁছায়। এই দলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার সহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগেই সি-১৭ কার্গো বিমানে করে সাঁজোয়া যান ও অত্যাধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম ইসলামাবাদে আনা হয়। সফরকালীন সময়ে তারা নিজস্ব নিরাপত্তা বহর ও বিশেষ যানবাহন ব্যবহার করবেন বলে জানা গেছে। সংলাপকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে দুইদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে রাজপথ প্রায় ফাঁকা। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ 'রেড জোন' এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত, অনেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে সেনাবাহিনী।
জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে আলোচনার মূল পর্ব বসবে। সেখানে বড় পর্দা, মিডিয়া সেন্টারসহ আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত সংবাদকর্মী এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন। তবে নিরাপত্তা কড়াকড়ির কারণে সাংবাদিকদের একাংশ ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। রেড জোন এলাকার হোটেলগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া ও প্রবেশ সীমাবদ্ধতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এক মার্কিন সাংবাদিকের অভিযোগ, ছবি তোলার উপযুক্ত জায়গার জন্য দিনে প্রায় ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ঐতিহাসিক এই সংলাপকে ঘিরে ইসলামাবাদ এখন কূটনৈতিক উত্তেজনা, কঠোর নিরাপত্তা এবং বিশ্ব গণমাধ্যমের নজরকাড়া এক শহরে পরিণত হয়েছে।