পহেলা বৈশাখে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে কৃষক কার্ড। একই দিনে ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র ২০ হাজার ৬৭১ জনকে প্রণোদনাও দেওয়া হবে। প্রণোদনাসহ এই কার্ডে কৃষকের জন্য মিলবে ১০টি সুবিধা। এর মধ্যে রয়েছে ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, কৃষি প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, ফসলের রোগ বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা এবং ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রয়ের ব্যবস্থা।
গতকাল রবিবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। কৃষি মন্ত্রণালয় সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করে। অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষি কার্ড নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, কৃষক কার্ড একটি ব্যাংকিং ডেভিড কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় এই কার্ডের বিপরীতে একটি করে ব্যাংক হিসেব খোলা হয়েছে। ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। তবে এর মধ্যে থেকে ২০ হাজার ৬৭১ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে। কৃষক বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া প্রতি বছর একবারই প্রণোদনা পাবেন।
জানা গেছে, ধারাবাহিকভাবে ৪ বছরের মধ্যে ২ কোটি ২৭ লাখ কৃষক এই কার্ড পাবেন। প্রথম দফাতে কৃষক, মৎস্যচাষি, মৎস্য আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির সব কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া লবণ চাষিরাও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং শেষে সারা দেশে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। পুরো ডেটাবেইজ তৈরির কাজ শেষ করতে চার বছর সময় লাগতে পারে। তবে সরকারের এই কাজটি শতভাগ রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত। কারণ পর্যায়ক্রমে সব কৃষকই এই কার্ড পাবে। পহেলা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ কার্ডের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের দিনেই নির্ধারিত কৃষকদের মধ্যে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
আমিন উর রশিদ জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি আধুনিক ডেটাবেজের আওতায় আসবে। সারের অপচয় হ্রাস এবং চাহিদা অনুযায়ী ফসল উৎপাদনের প্রকৃত লক্ষ নির্ধারণ করা হবে। কোথায় কোন ফসল ভালো হবে সে অনুযায়ী কৃষককে পরামর্শ প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, চাহিদার সঙ্গে ভারসাম্য রেখে এমন এক উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করা হবে যাতে করে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত না হয়। এজন্য কৃষকদের ফসল চাষের বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হবে।
জানা গেছে, প্রাক-পাইলট পর্যায়ে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভিবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক ও জামালপুর জেলার, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।