সামান্য তেলের পেছনেই কেটে যায় সারা দিন

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পেট্রোলপাম্পে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। তেলের সীমিত সরবরাহের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরেজমিনে গতকাল রবিবার রাজধানীর কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে এই চিত্র দেখা গেছে।

ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা আসাদগেট ও কল্যাণপুর। দিনে কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে এই এলাকার সড়ক দিয়ে। গতকাল দুপুরে আসাদগেটের মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন। জিজ্ঞেস করে জানা যায়, অনেকেই ভোর থেকে অপেক্ষা করছেন তেল নেওয়ার জন্য। কখন তেল পাবেন তারা জানেন না।

প্রাইভেট কার নিয়ে অপেক্ষা করা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘এখন ১টা বাজে। সকাল ৬টা ১৯ মিনিট থেকে অপেক্ষা করছি, কখন তেল  দেবে জানি না। পাম্পের লোকজনের সঙ্গে কয়েকবার দেখা করলে তারা জানিয়েছিল, তেলের গাড়ি না আসা পর্যন্ত তেল দিতে পারবে না। আজ গাড়ি আসবে কি না তাও বলতে পারছে না।’ তেল যদি আসেও রাত ১০টার আগে তার তেল নেওয়া শেষ হবে না বলে তিনি জানান মাসুম বিল্লাহ। তিনি আরও বলেন, ১৫০০ টাকার তেল দেয়, এই টাকার তেল দিয়ে হয় না। ১-২ দিন পর পর তার এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

তালুকদার ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকতা নাম প্রকাশ করার না শর্তে দেশ রূপান্তকে বলেন, তেল আজ আসবে কি না জানি না। অন্যদিন এই সময় বা ৫টার মধ্যে তেল চলে আসে। কিন্তু আজ তেল এখনো আসেনি। এভাবে একটা পাম্প স্টেশন চলতে পারে না।

একই পাম্পে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করা চালক রাকিব হাসান বলেন, আমি সকাল ১০টায় এসেছি। এখন ১টা বাজে, এখনো তেল পাইনি। প্রতিদিন এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব না, কিন্তু তেল না নিলে চলব কীভাবে?

প্রাইভেট কারচালক নাসির উদ্দিন জানান, আগে যেখানে ১০ মিনিটে কাজ শেষ হয়ে যেত, এখন সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তেলও সীমিতভাবে দেওয়া হচ্ছে। ১৫০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না অনেক সময়। তাও আবার সারা দিন এই তেলের পেছনে চলে যাচ্ছে।

এভাবে চলতে থাকলে চাকরিই থাকবে না বলে জানান তিনি।

কল্যাণপুরের খালেক পাম্পে গিয়ে দেখা যায় আরও করুণ চিত্র। মোটরসাইকেল চালক মো. সোহেল বলেন, ‘সকালে শুনলাম তেল এসেছে,  কিন্তু যখন পৌঁছালাম তখন বলে শেষ। অনেক সময় পাম্পে তেল থাকলেও পরিচিত লোকদের আগে দেওয়া হয়, এটা খুবই অন্যায়। আমাদের যে ফুয়েল পাস দিয়েছে সেটাও কাজ করছে না। আমাদের আগের নিয়মেই তেল নিতে হচ্ছে। এগুলো ভোগান্তি ছাড়া আর কিছুই না। তেল না দিতে পারলে পাম্প একবারে বন্ধ করে দিক। তাহলে আর তেল নিতে আসব না।

অন্যদিকে পাম্প কর্র্তৃপক্ষও তাদের সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন। পাম্পের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে যে পরিমাণ তেল আসে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। প্রতিদিন শত শত গাড়ি আসে তেল নিতে, কিন্তু আমরা দিতে পারি অল্প কিছু গাড়িকে। এতে অনেকেই ক্ষুব্ধ হন, কিন্তু আমাদের করার কিছু নেই। তেল দিতে পারলেই আমরা টাকা পাব, আমাদের ব্যবসা ভালো হবে। কেন আমরা তাদের তেল না দিয়ে ফিরিয়ে দেব।’

তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা রাইড শেয়ার চালক আরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের আয় পুরোপুরি গাড়ির ওপর নির্ভরশীল। সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে ওই সময়ের আয় বন্ধ হয়ে যায়। তেলের জন্য এত সময় নষ্ট হলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।’