জ্বালানী তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে রাজশাহীতে অ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া বিক্রি শুরু হয়েছে। এতে গ্রাহক হয়রানি বন্ধ ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। রবিবার সকালে রাজশাহী নগরীর কুমারপাড়ায় অবস্থিত গুলগফুর ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট’ মোবাইল অ্যাপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নতুন এই অ্যাপের মাধ্যমে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে। এর আওতায় একজন মোটরসাইকেল চালক পাঁচ দিনে একবার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার এবং মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কার চালক ২ হাজার টাকার পেট্রোল বা ডিজেল কিনতে পারবেন। ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পয়েন্টম্যানরা অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্ক্যান করে জ্বালানি তেল সরবরাহ করবেন। এ সেবা নিতে গ্রাহকদের আলাদা কোনো নিবন্ধনের (রেজিস্ট্রেশন) প্রয়োজন হবে না। এ ছাড়া কৃষকদের নির্ধারিত কার্ডের মাধ্যমে কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশাসনের এমন যুগোপযোগী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। গ্রাহকরা জানান, গেল কয়েক দিন দরে এই তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তাদের। অনেকেই একই দিনে একাধিক পাম্পেও তেল নিয়েছেন। আবার অনেক সাধারণ গ্রাহক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে হতাশা নিয়ে ফিরে যান। অ্যাপের মাধ্যমে এই জটিলতা কাটবে বলেই তারা আশা করছেন। তবে, অ্যাপের বাইরে গিয়ে যাতে কেউ প্রভাব খাঁটিয়ে তেল নিতে না পারে এজন্য প্রশাসনের কঠোর অবস্থান দাবি করেন সাধারণ গ্রাহকরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল নিতে আসা গ্রাহকরা যেন দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি এড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে তেল নিতে পারেন এবং কেউ যেন অবৈধ উপায়ে তেল মজুদ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যেই এই অ্যাপটি চালু করা হলো।
যেকোনো পাম্প থেকে একবার তেল নিলে পরবর্তী পাঁচ দিন পার হওয়ার আগে কোনো গ্রাহক আর তেল নিতে পারবেন না। নির্ধারিত মেয়াদের আগে তেল নিতে এলে অ্যাপের মাধ্যমে তা সহজেই শনাক্ত করা যাবে। এ সময় তিনি উপস্থিত গ্রাহকদের এই নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সবুর আলী, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বোরহান উদ্দিন অন্তর উপস্থিত ছিলেন।