ভারতীয় সংগীত জগতের নক্ষত্র পতন। ৯২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সুরের জাদুকর আশা ভোঁসলে। সোমবার মুম্বাইয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। প্রিয় 'আশা তাই'-কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সস্ত্রীক উপস্থিত হয়েছিলেন ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকার।
সোমবার দুপুরে মুম্বাইয়ের লোয়ার প্যারেলে আশা ভোঁসলের বাসভবন 'কাসা গ্রান্দে'-তে উপস্থিত হন শচীন ও অঞ্জলি টেন্ডুলকার। তেরঙা পতাকায় মোড়া এবং শ্বেতশুভ্র লিলি ফুলে ঢাকা কাঁচের কফিনে শায়িত ছিলেন কিংবদন্তি গায়িকা। তাঁকে শেষ দেখা দেখতে গিয়ে শচীন ও অঞ্জলি দুজনকেই বেশ আবেগপ্রবণ হতে দেখা যায়। গত মাসেই শচীনের ছেলে অর্জুন টেন্ডুলকারের বিয়েতে উপস্থিত হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে; সেটিই ছিল তাঁর শেষ জনসমক্ষে আসা অনুষ্ঠানগুলোর একটি।
'আশা তাই আমাদের পরিবারের সদস্য ছিলেন'
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ শচীন সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন। তিনি লেখেন, *"ভারতের জন্য এবং বিশ্বজুড়ে সংগীতপ্রেমীদের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখের দিন। আশা তাই আমাদের কাছে পরিবারের মতো ছিলেন। আজ আমাদের শূন্যতা প্রকাশ করার মতো ভাষা নেই। মনে হচ্ছে সময় থমকে গেছে। তবে তাঁর চিরন্তন সুরের মাঝে তিনি আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন।"*
আশা ভোঁসলে ক্রিকেটের অন্ধ ভক্ত ছিলেন। শচীন টেন্ডুলকারের আত্মজীবনী 'প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে'-তে তাঁর একটি স্মৃতিচারণ উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি শচীনকে সুনীল গাভাস্কার এবং ভিভ রিচার্ডসের মিশ্রণ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'শচীন বিশ্ব ক্রিকেটকে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শাসন করেছেন এবং ডন ব্র্যাডম্যানের সাথে একই সারিতে তাঁর নাম উচ্চারিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।'
মাল্টি-অর্গান ফেইলিউরের কারণে রবিবার সকালে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি। সোমবার মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে গান স্যালুট ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করা হয়। চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের পাশাপাশি ক্রীড়া ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও এই মহান শিল্পীর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন।
শচীনের পাশাপাশি বিরাট কোহলি, সাইরা বানুসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি আশা ভোঁসলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতে একটি দীর্ঘ ও গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান হলো।