কোনো বিচারকের অবসরের পর তাকে প্রলোভনমূলক জায়গায় নিতে গেলে, ঝুলিয়ে রাখলে, এই প্রতিষ্ঠানে ধাক্কা আসবে, সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানে ধাক্কা আসবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে ‘কনভোকেশন অ্যান্ড ওরিয়েন্টেশন: অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এখন যারা বড় বড় কথা বলছেন, অবসরের পরে গিয়ে চাকরি খুঁজছেন। বিভিন্ন কমিশন চাচ্ছেন, অবসরের পর সেখানে চাকরি করবেন, বিভিন্ন কোম্পানির চেয়ারম্যান হচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ছিলেন তো। প্রধান বিচারপতি হিসেবে অবসরের পরে কেন আপনাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হতে হবে? কেন কোম্পানির বোর্ডে বসে চেয়ারম্যানগিরি করবেন? আপনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ছিলেন, আপনি কেন কোম্পানির বোর্ডে বসে কোম্পানির শেয়ার হোল্ডারদের ডিসপিউটের মধ্যে বোর্ডে বসে চেয়ারম্যানগিরি করবেন?’ তিনি বলেন, ‘আমরা এই পেশার মান উন্নত করার জন্য এই জায়গাগুলো আরও বেশি স্বচ্ছতার জায়গায় আনতে চাই।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘হাইকোর্টে বিচার করতে বসে চিন্তা করবেন কোন ল চেম্বারে বেশি আর্বিটেশন আছে, অবসরের পর আমার কিছু আর্বিটেশন লাগবে। একসময় প্রশ্ন উঠেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারে প্রধান বিচারপতির পদ দেওয়া হলে জুডিশিয়ারির মধ্যে একটা ধাক্কা লাগবে। অবসরের পর কোনো বিচারককে এ রকম প্রলোভনমূলক জায়গায় নিতে গেলে, ঝুলিয়ে রাখলে এই প্রতিষ্ঠানে ধাক্কা আসবে, সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানে ধাক্কা আসবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এই সবগুলো যাচাই- বাছাই করে একটি স্বচ্ছ স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে। যাতে করে আমাদের আগামী প্রজন্ম যেমন স্পেস পায়, একইভাবে আগামী প্রজন্ম একটি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা, মেধা, সততা ও সাহস দিয়ে এই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।’ অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ।