৪৫ বছর পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইতিহাস গড়ল লিডস

১৯৮১ সালের পর এই প্রথম ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে লিগের ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে চমক দেখাল লিডস ইউনাইটেড। ২-১ গোলের এই ঐতিহাসিক জয়ে অবনমন অঞ্চল থেকে ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা অনেকটা নিশ্চিত করল তারা। অন্যদিকে মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ঘরের মাঠে প্রথম হারের স্বাদ পেল রেড ডেভিলরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গ্যালারিতে বসা ক্লাবটির সংখ্যালঘু মালিক স্যার জিম র‍্যাটক্লিফের চোখেমুখে ফুটে উঠছিল স্পষ্ট বিরক্তি। ম্যাচের মাত্র ৫ মিনিটে নোয়াহ ওকাফোরের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে লিড নেয় লিডস। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ওকাফোর নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন, যেখানে লেনি ইয়োরোর শরীরে লেগে বল দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। ২-০ তে পিছিয়ে বিরতিতে যায় ইউনাইটেড।

দুই মাস ইনজুরিতে থাকার পর এই ম্যাচেই ফিরছিলেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস। কিন্তু প্রত্যাবর্তনটা সুখকর হয়নি তার জন্য। ডমিনিক ক্যালভার্ট-লুইনের চুল টানার অপরাধে ভিএআর (VAR) পরীক্ষার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অদ্ভুতভাবে জ্বলে ওঠে স্বাগতিকরা। ব্রুনো ফার্নান্দেসের বাড়ানো পাস থেকে কাসেমিরো এক গোল শোধ করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন। এটি ছিল চলতি মৌসুমে ব্রুনোর ১৭তম অ্যাসিস্ট, যা তাকে প্রিমিয়ার লিগের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডের খুব কাছে নিয়ে গেছে।

ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইউনাইটেড। বেঞ্জামিন সেসকোর দুটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন লিডস গোলরক্ষক কার্ল ডারলো এবং ক্যালভার্ট-লুইনের গোললাইন ক্লিয়ারেন্স। শেষ পর্যন্ত হারের গ্লানি নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ক্যারিকের শিষ্যদের।

এই হারের ফলে আগামী শনিবার চেলসির বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামবে ইউনাইটেড। সেই ম্যাচে হ্যারি ম্যাগুয়ার সাসপেনশনের কারণে মাঠের বাইরে থাকতে পারেন। চেলসির কাছে হারলে লেরয় রোজেনিওরের দলের চেয়ে মাত্র ৪ পয়েন্ট এগিয়ে থাকবে তারা, যখন লিগের মাত্র ৫টি ম্যাচ বাকি।

অন্যদিকে, লিডস ইউনাইটেডের সামনে এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকার সুযোগ। তারা পরবর্তী ম্যাচে নিজেদের মাঠ এলান্ড রোডে মুখোমুখি হবে তলানিতে থাকা উলভসের। সেই ম্যাচে জয় পেলে রেলিগেশন জোন থেকে ৯ পয়েন্টের নিরাপদ দূরত্ব তৈরি করতে পারবে তারা।