এবার ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবার অধিকৃত গোলান মালভূমিতে অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আজ বুধবার (১৫এপ্রিল) রাতে এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আলজাজিরার। এই হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া  ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ ড্রোন হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

তবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে যে, তারা গোলান মালভূমির জাওরা এলাকায় একটি কামানের অবস্থান এবং ওডেম এলাকায় আর্টিলারি ব্যাটালিয়ন কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা তীব্র হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহও সীমান্ত ও অধিকৃত এলাকাগুলোতে তাদের পাল্টাহামলা জোরদার করেছে। গোলান মালভূমিতে এ ড্রোন হামলা সেই সংঘাতেরই একটি অংশ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। যুক্তরাষ্ট্রে  আয়োজিত এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশ নিজেদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি’র আশা প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (১৪এপ্রিল) ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঞ্চালনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ এবং ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার অংশ নেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, উভয় পক্ষ একটি নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে সরাসরি সংলাপে বসতে একমত হয়েছে। ইসরায়েল লেবাননের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠীদের নিরস্ত্র করা এবং উগ্রবাদী অবকাঠামো ধ্বংস করার বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছে। তারা মনে করে, সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই দুই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লেবানন তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং ২০২৪ সালের চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে। এছাড়া দেশে চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকট দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে তারা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আশা করছে, এই আলোচনা ২০২৪ সালের চুক্তির চেয়েও বড় পরিসরে হবে এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি বয়ে আনবে। এই আলোচনার ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। কূটনৈতিক এই উদ্যোগ লেবাননের বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের ঘরে ফেরার পথ সুগম করবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।